যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলন শেষে শনিবার দেশে ফিরেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি দেশে ফেরার পরদিন থেকে তাইওয়ানকে ঘিরে মহড়া বাড়িয়েছে চীনের সামরিক বাহিনী। খবর রয়টার্স।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গতকাল সকাল থেকে তাইওয়ান প্রণালীর মধ্যরেখা অতিক্রম করা নয়টি চীনা যুদ্ধবিমান শনাক্ত করেছে তারা।
গেল সপ্তাহে প্রায় এক বছর পর মুখোমুখি বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোয় বুধবার প্রায় ৪ ঘণ্টা বৈঠক করেন জো বাইডেন ও শি জিনপিং। দুই নেতার আলোচনায় উঠে আসে তাইওয়ানসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বিষয়।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানায়, দুই নেতার বৈঠকে তাইওয়ান ছিল গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, বাইডেনের সঙ্গে শির তাইওয়ান বিষয়ে ‘ঠাণ্ডা মেজাজের’ আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে শি দাবি করেন, তাইওয়ান দ্বীপ চীনের অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাইওয়ানকে অস্ত্র দেয়া বন্ধ করে চীন-তাইওয়ান একীভূতকরণের শান্তিপূর্ণ উদ্যোগে সমর্থন জানানো। শির বরাতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো জানায়, চীন একীভূতকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে। এটি থামানোর কোনো উপায় নেই।
এদিকে বাইডেন জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের আত্মরক্ষায় সহযোগিতা দেয়া অব্যাহত রাখবে। আগামী জানুয়ারিতে তাইওয়ানে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। দেশটির নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানাতে চীনকে অনুরোধ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এছাড়া তাইওয়ানের আশপাশে চীনের বড় আকারের সেনা মোতায়েনের নিন্দা জানান তিনি।
শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় তাইওয়ান ঘিরে চীনা বাহিনীর তৎপরতা কিছুটা কম ছিল। তবে তাইপের দাবি, সম্মেলন শেষ হতে না হতেই আবারো সামরিক মহড়া শুরু করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
গণতান্ত্রিকভাবে স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অঞ্চল বলে দাবি করে আসছে চীন। চার বছর ধরে দ্বীপের কাছে নিয়মিত সামরিক টহল ও মহড়া চালিয়ে আসছে চীনা বাহিনী।
এ বিষয় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। চীনা কর্তৃপক্ষ জানায়, তাইওয়ানের আশপাশে তাদের কার্যকলাপের লক্ষ্য দ্বীপটির বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আঁতাত থেকে চীনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা।
বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বারবার চীনের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে তাইওয়ান সরকার। তাদের দাবি, দ্বীপের জনগণই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।
গত দেড় বছরে তাইওয়ানের চারপাশে দুটি বড় ধরনের আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়েছিল চীন। যদিও শেষ পর্যন্ত আক্রমণ চালায়নি চীনা বাহিনী। সাম্প্রতিক শি-বাইডেনের মধ্যকার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর আবারো সামরিক মহড়া শুরু করে এ অঞ্চলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে চীন।
প্রসঙ্গত, চীন মনে করে তাইওয়ান তাদেরই অংশ। তবে তাইওয়ান বিশ্বাসী নিজেদের স্বাধীনতায়। তাদের নিজস্ব সংবিধান আছে। তারা চীনের অংশ হতে চায় না। রক্ষা করতে চায় নিজেদের সার্বভৌমত্ব। ‘এক চীন’ নীতি বাস্তবায়ন করতে তাইওয়ানকে যেকোনো মূল্যে করায়ত্ত করতে চায় বেইজিং। এমনকি প্রয়োজন হলে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার কথা জানিয়ে রেখেছে চীন।










