ফিলিস্তিনের গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর চারটার আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রস্তাবটি পাস হয়। গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে মৌরিতানিয়া ও মিসর এই প্রস্তাব তুলেছিল। বাংলাদেশ, ভারতসহ ১৫৩টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলসহ ১০টি দেশ ভোট দিয়েছে বিপক্ষে। ভোটদানে বিরত ছিল ২৩টি দেশ। খবর রয়টার্স। 

হামাসের কারণে পুরো গাজাবাসীকে ধ্বংস করা কখনও ন্যায্য হতে পারেনা বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত কানাডার কর্মকর্তা। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডও একই সুরে কথা বলেছে ওই বৈঠকে। 

জাতিসংঘের এই মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সরকার।তারা মনে করেন এর মাধ্যমে বড়ধরনের কূটনৈতিক চাপে পড়ছে ইসরায়েল। এছাড়া হামাসের এক কর্মকর্তা ইজ্জাত আল-রেশিক টেলিগ্রামের এক বার্তায় বলেছেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই আমাদের জনগণের ওপর গণহত্যা বন্ধ করতে হবে।

তবে এবারও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করেছে। এই যুদ্ধবিরতি হামাসের পথকে সুগম করবে বলে মনে করে ইসরায়েলের মিত্রদেশ যুক্তরাষ্ট্র। ভোট শুরুর আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান বলেছেন, যুদ্ধবিরতির মানেই হচ্ছে হামসকে টিকিয়ে রাখা এবং ইসরায়েল ও ইহুদিদের গণহত্যা চালানোর পথকে সুগম করে দেয়া।

ইসরায়েল হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের সমর্থন পেয়েছে। তবে গাজায় নির্বিচারে বোমা হামলার ফলে তারা তাদের সমর্থন হারাতে শুরু করেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে এক রাজনৈতিক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট বাইডেন এসব কথা বলেন। 

৭ অক্টোবরের আক্রমণের পর গাজায় হামাস নির্মূলের ঘোষণা দেয় ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, যুদ্ধের দুই মাসে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ হাজার ২০৫ ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন প্রায় পঞ্চাশ হাজার। হতাহতের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী ও শিশু।