১৯৭৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে গলছে আর্কটিক মহাসাগরের বরফ । জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উত্তর মেরুর বরফ গলে যাওয়ায় এক সময়ের অচল আর্কটিক সমুদ্রপথ এখন দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। সেখানে একটি নতুন নৌপথ সৃষ্টির সুযোগ দেখা দিয়েছে, যা সামনে রেখে দেশটির সরকার ও বিশেষজ্ঞরা পরবর্তী বাণিজ্যিক কৌশল সাজাচ্ছেন। খবর—কোরিয়ান হেরাল্ড।
পত্রিকাটির বরাতে জানা যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এবং ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি এই রুটকে ভবিষ্যতের লজিস্টিক কৌশলের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কারণ, আর্কটিক রুট ব্যবহার করলে দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দরনগরী বুসান থেকে ইউরোপের রটারড্যাম পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় সাত হাজার কিলোমিটার কমে যাবে। এতে সুয়েজ খাল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংকটপূর্ণ চোকপয়েন্ট এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে, ফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও জলদস্যুতার আশঙ্কাও কমবে।
বুসান মেয়রের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট লি বলেন, ‘আর্কটিক রুট বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক রুট ব্যবহারের সম্ভাবনা বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, বিশেষ করে বুসান, এর উন্নয়ন থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হতে পারে।’
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বর্তমান প্রযুক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে এ রুট বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। ফলে নতুন সমুদ্রপথের খোঁজে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে আর্কটিক রুট ইতিমধ্যেই সামুদ্রিক কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। এটি যেমন বড় সুযোগ, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ পরিকল্পনাও।
উত্তর সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত এই রুটটি রাশিয়ার উপকূল বরাবর চলে গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পরিকল্পনা হলো—চীন, জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পণ্য বুসানে একত্র করে ইউরোপে পাঠানো। আর্কটিক টুডের বরাতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বুসান আর্কটিক শিপিং রুট টাস্ক ফোর্স গঠিত হয়। এতে ১৯ জন বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও নীতিনির্ধারক যুক্ত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে উত্তর মেরু শিপিং খাতে অভিজ্ঞ গবেষক প্রফেসর কিম তে-ইউ বলেন, ‘আর্কটিক হাব পোর্ট নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলছে—এটি একদিকে দুঃখজনক বাস্তবতা, অন্যদিকে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগও সৃষ্টি করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য আর্কটিক রুট ব্যবহারের সম্ভাবনা তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। এই রুট ব্যবহার করে দেশটি রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলের সম্পদ ও ইউরোপের বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারবে।










