ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ অভিযানে পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে চালানো বিমান হামলায় জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের পরিবারের ১০ সদস্য এবং ৪ জন ঘনিষ্ঠ সহকারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি উর্দু। মঙ্গলবার রাত ১টা ৫ মিনিটে চালানো এই হামলায় নয়টি স্থানে হামলা চালায় ভারত।

জইশ-ই-মোহাম্মদের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বিবিসি উর্দু জানিয়েছে, বাহাওয়ালপুরের ‘সুবহান আল্লাহ কমপ্লেক্স’ নামক ঘাঁটিতে চালানো হামলায় আজহারের বড় বোন ও তার স্বামী, তার ভাগ্নে ও ভাগ্নের স্ত্রী, একজন ভাতিজি এবং পরিবারের পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে মাসুদ আজহারের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তার মা এবং আরো দুইজন জইশ-সংশ্লিষ্ট নেতা প্রাণ হারিয়েছেন।

বাহাওয়ালপুর পাকিস্তানের দ্বাদশ বৃহত্তম শহর। এটি লাহোর থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ১৮ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত সুবহান আল্লাহ ক্যাম্প, যেটিকে ‘উসমান ও আলি ক্যাম্পাস’ নামেও ডাকা হয়। অভিযোগ রয়েছে জইশের নিয়োগ, অর্থ সংগ্রহ এবং মতাদর্শ প্রচারের কেন্দ্র হিসেবেই এটি ব্যবহৃত হয়।

প্রসঙ্গত, মাসুদ আজহারই ২০০০ সালে জইশ-ই-মোহাম্মদ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০১ সালে ভারতের সংসদে হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট হামলা ও ২০১৯ সালের পুলওয়ামা আত্মঘাতী হামলার মতো ঘটনায় এ সংগঠন জড়িত বলে অভিযোগ ভারতের। মাসুদ আজহার ছিলেন সেই তিনজনের একজন, যাদের ভারতের বিমান সংস্থা ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের হাইজ্যাক হওয়া ফ্লাইট ৮১৪-এর যাত্রী ও ক্রুদের মুক্তির বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডু থেকে দিল্লিগামী উক্ত বিমানটি অপহরণ করে কান্দাহারে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তালেবানরা তখন ক্ষমতায় ছিল।