জার্মানির নির্বাচনে জয় পেয়েছে ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের রক্ষণশীল দল সিডিইউ-সিএসইউ। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর চেয়ে তারা অনেক এগিয়ে থাকলেও প্রত্যাশিত ৩০ শতাংশের চেয়ে কম ভোট পেয়েছে দলটি। অন্য যে দলটি বড় সাফল্য পেয়েছে, সেটি হলো চরম-ডানপন্থী অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। তারা রেকর্ড ২০.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে এসেছে। খবর ডয়চে ভেলে ও বিবিসি।

উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উদ্দেশে চ্যান্সেলর প্রার্থী ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস বলেন, চলুন আজ রাতে উদযাপন করি এবং সকালে কাজে নেমে পড়ি। এখন আমাদের সামনে যে দায়িত্ব রয়েছে, তা আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করছি।

এএফডির চ্যান্সেলর প্রার্থী অ্যালিস ওয়েইডেল তার সমর্থকদের মাঝে বিজয়ের আনন্দ উদযাপন করেন। তবে তার দল আরো ভালো ফল আশা করেছিল। অ্যালিস ওয়েইডেল বলেন, জার্মানরা পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের কোয়ালিশন গঠনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলেও পূর্বাভাস দেন তিনি। ওয়েইডেল বলেন, আমাদের নতুন নির্বাচন হবে। আমার মনে হয় না আমাদের আর চার বছর অপেক্ষা করতে হবে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরের দিকে ভোটের ফলাফল আসতে শুরু করলে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এএফডি পূর্ব জার্মানিতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে। সেখানে তারা ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে গণমাধ্যম জেডডিএফের এক জরিপে উঠে এসেছে।

জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজের তিন দলীয় কোয়ালিশন গত বছর ভেঙে পড়ার পর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস জনগণের কাছে আবেদন করেছিলেন যেন তারা তাকে এককভাবে ক্ষমতা গঠনের জন্য শক্তিশালী ম্যান্ডেট দেয়। তিনি বলেছিলেন, অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকানোর মতো জার্মানির বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে এটি তাকে সাহায্য করবে।

কিন্তু জার্মান ভোটারদের মত ছিল ভিন্ন। এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে মোট ভোটার প্রায় ছয় কোটি। এবারের নির্বাচনে ৮৩-৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জার্মানির সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে এটি রেকর্ড। তবে ম্যার্ৎসের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাট দল এবং তাদের বাভারিয়ান সহোদর দল মাত্র ২৮.৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা প্রত্যাশার তুলনায় কম।

ম্যার্ৎস স্পষ্টভাবেই ঘোষণা করেছেন যে, তিনি এএফডির সঙ্গে কাজ করবেন না। জার্মানির মূলধারার দলগুলোর মধ্যে চরম ডানপন্থীদের সঙ্গে কাজ না করার একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে। তবে তার সম্ভাব্য জোট সঙ্গী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে—মাত্র ১৬.৪ শতাংশ।

জার্মানির বিদায়ী চ্যান্সেলর ওলাফ শলজ নির্বাচনী ফলাফলকে তার দলের জন্য ‘তেতো পরাজয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং তিনি কোনো কোয়ালিশন আলোচনায় অংশ নেবেন না বলেও জানিয়েছেন।

সিডিইউ-সিএসইউ প্রার্থী ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস হতে পারেন জার্মানির পরবর্তী চ্যান্সেলর। তারা হয়তো এসপিডি বা গ্রিনের সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করবে। কিন্তু এএফডির কট্টর অবস্থানের কারণে তাদের এড়িয়ে চলছে সবকটি রাজনৈতিক দল। তাই জোট সরকারে দলটিকে দেখা না যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

গত নভেম্বেরে এসপিডির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ভেঙে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো দেশটিতে।