গভীর সমুদ্রের গালপার হাঙর এখন বড় ঝুঁকিতে পড়েছে। কসমেটিকস পণ্যে ব্যবহারের জন্য তাদের লিভারের তেলের চাহিদা বাড়ায় এ প্রজাতি দ্রুত কমে যাচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থা সিআইটিইএস কঠোরভাবে বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছে। সংস্থাটি মনে করছে, দীর্ঘদিন নজরদারির বাইরে থাকা এসব গভীর সমুদ্রের হাঙরকে এখন সুরক্ষায় আনা জরুরি। খবর সিএনএন।

আন্তর্জাতিক প্রাণী কল্যাণ তহবিল (আইএফএডব্লিউ) জানিয়েছে, গালপার হাঙরের লিভারে স্কোয়ালিন নামে এক ধরনের উপাদান থাকে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ত্বক ময়েশ্চার রাখার গুণে সমৃদ্ধ। তাই মেকআপ, আফটারশেভ, সানস্ক্রিন, নিকোটিন প্যাচ ও অর্শের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অনেক পণ্য তৈরিতে হাঙরের লিভারের তেল ব্যবহার করা হয়।

গবেষণা বলছে, গালপার হাঙর সাধারণত ২০০ থেকে ১,৫০০ মিটার গভীরে থাকে। তিন–চতুর্থাংশ গালপার প্রজাতি এখন বিপন্ন। কিছু অঞ্চলে এদের সংখ্যা ৮০ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

উজবেকিস্তানের সমরকন্দে সাইটসের বৈঠকে ৭০টির বেশি হাঙর ও রে প্রজাতিকে নতুন সুরক্ষা দেয়া হয়েছে। গালপার হাঙরকে অ্যাপেনডিক্স-২ তালিকায় রাখা হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ বাড়ে। তিমি হাঙর, ওশানিক হোয়াইটটিপ ও মান্তা রে এর মতো প্রজাতি অ্যাপেনডিক্স-১ তালিকায় গেছে, যেখানে বাণিজ্য পুরোপুরি নিষিদ্ধ। অথচ এতদিন পর্যন্ত গভীর সমুদ্রের এ প্রাণীরা উপেক্ষিত ছিল।

২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, ৫২১টি গভীর সমুদ্রের হাঙর ও রে প্রজাতির দুই–তৃতীয়াংশ এখন বিপন্ন। গালপার হাঙর দুই মিটার পর্যন্ত বড় হয়। তাদের লিভার তেলে স্কোয়ালিনের পরিমাণ ৭০ শতাংশের বেশি। গভীর সমুদ্রের মাছ শিকার বাড়ায় ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে এ প্রজাতির ওপর চাপ আরো বেড়েছে।

ip-2018-21-esp-cites-033-334932

লিভারে স্কোয়ালিনের পরিমাণ বেশি থাকায় এ প্রজাতির হাঙর শিকার করা হয়। ছবি: সিএনএন

আইএফএডব্লিউর নীতিনির্ধারকরা জানাচ্ছেন, গালপার হাঙরের জন্ম ও বৃদ্ধির গতি ধীর। তাই সংখ্যা কমে গেলে পুনরুদ্ধারে বহু বছর লাগে। অস্ট্রেলিয়ায় শিকার হওয়া ‘ডাম্ব গালপার’ প্রজাতির মাত্র ২৫ শতাংশ পুনরুদ্ধার হতে ৮৬ বছর লাগতে পারে।

স্কোয়ালিনের বাজার ২০২৩ সালে ছিল ১৫০ মিলিয়ন ডলার। এর ৮০ শতাংশ উদ্ভিদ থেকে এলেও হাঙরের লিভার তেল এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে। একটি টন স্কোয়ালিন তৈরিতে প্রায় তিন হাজার হাঙর লাগে। ২০১৫ সালের একটি জরিপে দেখা গেছে, ৭২টি ক্রিমের ২০ শতাংশেই হাঙরের লিভার থেকে পাওয়া স্কোয়ালিন ছিল। তবে কিছু ব্র্যান্ড ২০০৮ সাল থেকে এটি ব্যবহার বন্ধ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ এখন সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সিআইটিইএস এর নিয়ম না মানলে বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এখনই নিয়ন্ত্রণ না বাড়ালে ভবিষ্যতে আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। মালদ্বীপ আবার গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার চালু করায় বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ আরো জরুরি হয়ে পড়েছে।