ভেনেজুয়েলার বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরোকে জয়ী ঘোষণার প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে দেশজুড়ে। গতকাল সোমবার (২৯ জুলাই) হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে গেলে তাদের থামাতে রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের দমাতে রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট ভবন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঝড় উঠেছে প্রতিবাদের। খবর বিবিসি।

ভেনেজুয়েলার ভোটের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। তিনি বলেন, ভোটে দেশটির জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি।

পশ্চিমা ও লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশসহ জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা ভেনেজুয়েলার নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের স্বতন্ত্র ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। মাদুরোর বিজয়কে স্বীকৃতি দেয়নি আর্জেন্টিনা।

লাতিন আমেরিকার অন্য ছয়টি দেশ- চিলি, কোস্টারিকা, পানামা, পেরু, ডোমিনিকান রিপাবলিক এবং উরুগুয়ে থেকেও ভেনেজুয়েলার কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল সামাজিক প্ল্যাটফর্মে ‘হস্তক্ষেপবাদী পদক্ষেপ এবং বিবৃতি’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

গত রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরোকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিলেন দেশটির ন্যাশনাল ইলেকটোরাল কাউন্সিলের (সিএনই) প্রধান এলভিস আমরোসো। মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিতি আছে এলভিস আমরোসোর।

ভেনেজুয়েলার বিরোধী জোট ভোট গণনায় ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ করে ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এডমুন্ডো গনজালেজের নেতৃত্বাধীন জোটের একজন মুখপাত্র বলেছেন যে, ভোট গণনায় নজরদারির জন্য থাকা তাদের জোটের অনেককেই ভোট কেন্দ্র ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। ফলাফলের আগেই বিরোধীদের আশঙ্কা ছিল যে, মাদুরোর পার্টি পিএসইউভি ভোট চুরির চেষ্টা করবে। নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে দেখা গিয়েছিল যে, ৭৩ দশমিক ২০ শতাংশ ভোট নিয়ে মাদুরোর চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন গঞ্জালেস।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১১ বছর ধরে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় আছেন নিকোলাস মাদুরো। নির্বাচনের আগে সমর্থকদের সামনে মাদুরো বলেছিলেন, যেভাবেই হোক নির্বাচনে জিতবেন তিনি। এতে ফলাফল কারচুপির বিষয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। নির্বাচনে খুবই সীমিতসংখ্যক স্বাধীন পর্যবেক্ষক সুযোগ পেয়েছেন। জাতিসংঘের চারজন এবং একটি টেকনিক্যাল টিম পর্যবেক্ষণে ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকদের উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন সিএনই প্রধান।

অনেক ভোটার বলেছেন যে, ২৫ বছর পর তারা পরিবর্তনের আশা করছিলেন। এই দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় আছে সমাজতান্ত্রিক পিএসইউভি পার্টি। প্রথমে হুগো শ্যাভেজ এবং ২০১৩ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যুর পর নিকোলাস মাদুরোর নেতৃত্বে শাসনক্ষমতায় আছে পিএসইউভি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ- এ সময়ে শুধু নির্বাহী ও আইনসভাই নয়, বিচার বিভাগেরও অনেকটা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন তারা।