চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির চার সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে দেশটির প্রসিকিউশন বিভাগ। এই চারজনের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সাবেক সহকারী ও জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান জোসেফ উ-র সাবেক সিনিয়র স্টাফার। খবর গার্ডিয়ান।

তদন্তকারীরা বলছেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য, বিশেষত সংবেদনশীল কূটনৈতিক তথ্য, চীনের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন। যা তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে।

প্রসিকিউটরদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এক অভিযুক্ত তাইপে সিটি কাউন্সিলরের অধীনে কাজ করতেন, তিনি চীনে তথ্য পাঠানোর জন্য নির্দিষ্ট এক বার্তা আদান-প্রদান অ্যাপ ব্যবহার করতেন। অভিযোগে আরো বলা হয়, তথ্যের বিনিময়ে অভিযুক্তরা ২ লাখ ৬০ হাজার থেকে ৬ লাখ ৬০ হাজার তাইওয়ানি ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।

প্রসিকিউশন বিভাগ পাঁচ বছর থেকে ১৮ বছরেরও বেশি মেয়াদের কারাদণ্ড ও অবৈধভাবে অর্জিত ৮৩ লাখ তাইওয়ানি ডলার (প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার মার্কিন ডলার) বাজেয়াপ্ত করার আবেদন করেছে।

চার অভিযুক্তের মধ্যে দু’জন অপরাধ স্বীকার করেছেন, তবে জোসেফ উ-র সাবেক সহকারীসহ বাকি দু’জন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।

গত বছরের শুরু থেকে তাইওয়ান সরকার গুপ্তচরবৃত্তি ঠেকাতে অভিযান জোরদার করেছে। ২০২৪ সালেই ৬৪ জনকে এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা আগের দুই বছরের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। অধিকাংশ অভিযুক্তই সামরিক বাহিনীর সাবেক বা বর্তমান সদস্য। মার্চ মাসে প্রেসিডেন্টের দপ্তরে কর্মরত নিরাপত্তা দলের তিন সদস্যসহ চার সেনাকে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, তাইওয়ানের বিরোধী কুওমিনটাং (কেএমটি) পার্টির কয়েকজন কর্মীও অনুরূপ অভিযোগে তদন্তাধীন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।