মিয়ানমারের জান্তা সরকার তাদের বহুল প্রতীক্ষিত আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচনের প্রথম ধাপের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। গতকাল জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথম দফায় ভোট হবে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শহরে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১৮ আগস্ট মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশন দেশটির সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। ভোট গ্রহণ শুরু হবে আগামী ২৮ ডিসেম্বর। এরপর ধাপে ধাপে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

জান্তা সমর্থিত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের ৩৩০টি প্রশাসনিক এলাকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশে প্রথম পর্যায়ের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সব মিলিয়ে ১০২টি প্রশাসনিক এলাকায় প্রথম পর্যায়ের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পুরো নির্বাচনের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।

মিয়ানমারে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২০ সালে। সেবারের নির্বাচনে অং সান সু চির দল বড় জয় পেয়েছিল। পরে ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির দলের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করেছিল দেশটির সামরিক বাহিনী। এর পর থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা জান্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

প্রথম দফায় যেসব টাউনশিপে ভোট হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বিস্তৃত ও কম জনবসতিপূর্ণ রাজধানী নেপিদোর সব টাউনশিপ এবং বাণিজ্যিক রাজধানী ও বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ টাউনশিপে। এ টাউনশিপগুলোয় প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বাস করে।

যেসব এলাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে বহুপক্ষীয় লড়াই চলছে, সেসব এলাকায় ভোট আয়োজনের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে বিজ্ঞপ্তিতে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। যেমন পশ্চিমের রাজ্য রাখাইনে ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে মাত্র তিনটি টাউনশিপে প্রথম দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ রাজ্যের মাত্র তিনটি টাউনশিপই জান্তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশটিতে ভোটের সমালোচনা বা ভোটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান চালু করা হয়েছে।

জান্তা সরকারের অধীন মিয়ানমারের এ নির্বাচনকে ‘প্রতারণা’ বলে বর্ণনা করেছেন জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘চলমান সামরিক শাসন আড়াল করতে এ নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। সামরিক জান্তা এখনো পরবর্তী ধাপের ভোটের তারিখ ঘোষণা করেনি বা কোন কোন শহরে ভোট হবে তাও নিশ্চিত করেনি।’