ফেডারেল সরকারের ব্যয় নিয়ে ফের অচলাবস্থায় পড়তে যাচ্ছিল প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সরকার। তবে শেষ পর্যন্ত গতকাল সেই শাটডাউন এড়াতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন সিনেট। আংশিক সরকারি অচলাবস্থা এড়াতে কংগ্রেসে ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিল প্যাকেজ পাস করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে সিনেটে বিলটি পাস হয়। বিলটি এখন আইনে স্বাক্ষর করার জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে শেষ মুহূর্তে আংশিক সরকারি অচলাবস্থা এড়ানো সম্ভব হলো। খবর সিএনবিসি।

স্থানীয় সময় শনিবার রাত ২টার দিকে মার্কিন সিনেটে বিলটি তোলা হয়। পরে এর ওপর ভোটাভুটি হলে ৭৪-২৪ ভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগে শুক্রবার জরুরি এ বিলের অনুমোদন দেয় মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ।

১ হাজার ১২ পৃষ্ঠার এ বিলে প্রতিরক্ষা, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার জন্য তহবিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ তহবিলের ৭০ ভাগের বেশি অর্থ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হবে।

সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, ‘এটি সহজ ছিল না, তবে আমাদের অটলতার কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। এটা মার্কিন জনগণের জন্য ভালো হয়েছে যে আমরা কাজ শেষ করার জন্য একটি দ্বিদলীয় চুক্তিতে পৌঁছেছি।’ বিবিসি বলছে, এ আইন দুই প্রধান দলের মধ্যে কয়েক মাসের তীব্র দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাবে।

এদিকে হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তারা শাটডাউন প্রস্তুতি বন্ধ করে দিয়েছেন, কারণ তারা বিল পাসের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এবং আশা করছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শিগগিরই বিলে সই করবেন।

বিল পাসের মাধ্যমে ধারণা করা হচ্ছে যে সরকারি বিভিন্ন খাত আংশিকভাবে বন্ধ হবে না এবং তাদের স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপ চালিয়ে যেতে পারবে।

প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে বিল পাস হওয়ায় এখন তা প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে পাঠানো হবে। তিনি এতে সই করলেই তা আইনে পরিণত হবে।

এদিকে বিলটি পাস হলে উভয় পক্ষের রক্ষণশীলদের একটি সোচ্চার গোষ্ঠী সরকারি ব্যয় বাড়ানোর বিরোধিতা করছে। তারা নতুন বিলের আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি বিলের পক্ষে সায় দেয়ার জন্য হাউজে লুইজিয়ানার মাইক জনসনকে বাদ দিয়ে নতুন স্পিকার নির্বাচনেরও দাবি তুলেছেন জর্জিয়ার কংগ্রেসউইম্যান মার্জোরি টেলর গ্রিন।

সরকারি ব্যয় মেটাতে তহবিল অনুমোদন দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের আইন পরিষদের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ কংগ্রেস। এক্ষেত্রে অনেক সময় বিরোধী দলের দাবি বা চাপের মুখে অর্থ বরাদ্দ আটকে যায়। ফলে স্বভাবতই সংকটের মুখে পড়ে দেশের অর্থনীতি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একে ‘গভর্নমেন্ট শাটডাউন’ আখ্যায়িত করা হয়। 

শাটডাউন শুরু হলে বহু ফেডারেল কর্মীর চাকরি বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ বা ধীর হয়ে যায় সরকারি পরিষেবা কার্যক্রম। 

শাটডাউনের কবলে পড়লে দেশটিতে তীব্র অর্থনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রীয় আর্থিক খাতকে ফেলে দেয় তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্যে।

উল্লেখ্য, মার্কিন সরকার গত চার দশকে বেশ কয়েকবার শাটডাউন বা আংশিক শাটডাউনের মুখোমুখি হয়েছে।