উত্তর মেসিডোনিয়ার একটি নাইটক্লাবে আগুন লেগে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ১১৮ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। খবর বিবিসি।
স্থানীয় সময় গতকাল গভীর রাতে কোচানি শহরের পালস ক্লাবে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ক্লাবটি রাজধানী স্কোপজে থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব দিকে অবস্থিত। ঘটনার সময় সেখানে জনপ্রিয় হিপ-হপ সংগীতদল ডিএনকে-এর কনসার্ট দেখতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের ছাদে আগুন জ্বলছে।
প্রধানমন্ত্রী হ্রিস্টিজান মিকোসকি একে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক দিন’ বলে বর্ণনা করে বলেন, ‘দেশটিতে অনেক তরুণ প্রাণ হারিয়েছে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পানসে তস্কোভস্কি বলেছেন, ‘আগ্নেয় উপকরণ থেকে ছিটকে আসা স্ফুলিঙ্গের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এ স্ফুলিঙ্গ ছাদে আঘাত করে। সেখানে অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।’
ভিডিওতে দেখা গেছে, সংগীতদল মঞ্চে পারফর্ম করার সময় দুটি শিখা জ্বলে ওঠে। এর থেকে স্ফুলিঙ্গ ছাদে ছড়িয়ে যায়। তখনো ক্লাবটি মানুষে পূর্ণ ছিল। বের হওয়ার পরিবর্তে অনেকে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিলেন।
প্রাণে বেঁচে যাওয়া ২০ বছর বয়সী মারিজা তাসেভা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, তিনি বের হওয়ার সময় হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে যান। তখন পিষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন। পরে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে তার ২৫ বছর বয়সী বোন এখনো নিখোঁজ। পরিবার তাকে খুঁজতে হাসপাতালগুলোয় খোঁজ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, চিকিৎসার জন্য তাকে স্কোপজে পাঠানো হতে পারে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোচানি হাসপাতালে প্রাথমিক অবস্থায় ৯০ জন দগ্ধ রোগীকে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে ১৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালের পরিচালক ক্রিস্টিনা সেরাফিমোভা বলেন, ‘অনেকের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ অনেকের কাছেই আইডি কার্ড ছিল না। নিহতদের বয়স ১৪-২৪ বছরের মধ্যে।
জরুরি ভিত্তিতে সরকার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ঘটনার কারণ নির্ধারণ ও পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে কাজ করছে। এরই মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ২০০২ সালে গঠিত ডিএনকে উত্তর মেসিডোনিয়ার জনপ্রিয় সংগীত দলগুলোর মধ্যে একটি।










