ইরান-ইসরায়েলের সামরিক সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের তিন দেশের আকাশসীমা বন্ধ। এতে বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ইরান, জর্ডান ও ইরাক তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে সব বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে বিশ্বের নানা প্রান্তের উড়োজাহাজ পরিষেবা। বহু উড়োজাহাজের যাত্রাপথ বদলানো হচ্ছে। আবার অনেক উড়োজাহাজকে মাঝপথ থেকেই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যাওয়া বহু ফ্লাইট বাতিলও হয়েছে।
ফ্লাইটরাডারের ডাটায় দেখা গেছে, ইরান, ইরাক ও জর্ডানের আকাশসীমা খালি হয়ে আছে। সেখান দিয়ে যাওয়া ফ্লাইটগুলোকে সৌদি আরব কিংবা মিসরের দিকে ঘুরিয়ে দেয়া হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউরোপের দেশগুলো থেকে আসা এবং ইউরোপ অভিমুখী প্রায় ১ হাজার ৮০০ ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫০টি ফ্লাইট বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ইউরোকন্ট্রোল। ইসরায়েলের এল আল এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তারা ইসরায়েল থেকে যাওয়া এবং ইসরায়েল অভিমুখী ফ্লাইট বন্ধ করেছে। একইভাবে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে এয়ার ফ্রান্স, রায়ানএয়ার এবং উইজ এয়ারলাইনসও।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই দেশেরই আকাশসীমা বন্ধ। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাপথ। ইরানের সীমান্তবর্তী পূর্ব ইরাক বিশ্বে উড়োজাহাজ চলাচলের অন্যতম ব্যস্ত পথ। এ আকাশপথ ধরে প্রতিনিয়তই পশ্চিমের কোনো দেশে কিংবা ইউরোপে যায় এশিয়ার দেশগুলোর উড়োজাহাজ। আবার ফেরার সময়ও এ পথ ব্যবহার করে উড়োজাহাজগুলো। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প পথে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে উড়োজাহাজগুলোকে। এর ফলে বাড়ছে জ্বালানির খরচও।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় এয়ার ইন্ডিয়ার অন্তত ১৬টি উড়োজাহাজ হয় ফিরে গেছে অথবা গতিপথ বদল করেছে। ভারতের আকাশ পরিবহন সংস্থাটি তার এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতেই তাদের এ সিদ্ধান্ত। যেসব উড়োজাহাজকে ফিরতে হয়েছে অথবা পথ বদল করতে হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগই ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দিকে যাচ্ছিল অথবা সেদিক থেকে আসছিল। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে ওইসব উড়োজাহাজের যাত্রীদের তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে।










