ইরানে মেয়েদের স্কুলে হামলায় যুক্তরাষ্ট্র দায়ী, ইঙ্গিত সামরিক তদন্তে
মার্কিন সামরিক তদন্তকারীরা মনে করছেন, ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মেয়েদের স্কুলে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনীই দায়ী ছিল। ওই হামলায় দেড় শতাধিক ইরানি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থী। তবে তদন্ত এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি এবং তদন্ত শেষও হয়নি বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে দুই মার্কিন কর্মকর্তা।
তদন্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। কোন ধরনের প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাথমিক এ মূল্যায়ন করা হয়েছে, কী ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহার হয়েছিল, হামলার জন্য ঠিক কে দায়ী বা কেন যুক্তরাষ্ট্র ওই স্কুলে হামলা চালাতে পারে—এসব বিষয়ও এখনো স্পষ্ট নয়।
এর আগে বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন, সামরিক বাহিনী ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে।
সংবেদনশীল সামরিক বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা ওই কর্মকর্তারা বলেন, নতুন কোনো প্রমাণ সামনে এলে যুক্তরাষ্ট্র দায়মুক্তও হতে পারে। ঘটনার জন্য অন্য কোনো পক্ষ দায়ী বলে প্রমাণিত হতে পারে, এ সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে না।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের মেয়েদের ওই স্কুলে শনিবার হামলা চালানো হয়। সেটি ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিন। জেনেভায় জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরেইনি বলেছেন, ওই হামলায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
হোয়াইট হাউজ তদন্ত নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি। তবে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যখন যুদ্ধ দপ্তর বিষয়টি তদন্ত করছে, তখন এটুকু বলা যায়—ইরানের শাসনব্যবস্থাই বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানায়, যুক্তরাষ্ট্র নয়।’
এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা এবং যৌথ অভিযান পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি সূত্র জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভৌগোলিক এলাকা ও লক্ষ্যবস্তুর ধরন অনুযায়ী ভাগ করে হামলা চালিয়েছে। পশ্চিম ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোয় হামলা চালাচ্ছিল ইসরায়েল, আর যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণাঞ্চলে একই ধরনের লক্ষ্যবস্তু ও নৌবাহিনীর স্থাপনাগুলোতে আঘাত করছিল।
স্কুলে হামলার জন্য কে দায়ী তা উল্লেখ না করেই ইউনাইটেড নেশনস হিউম্যান রাইটস অফিস মঙ্গলবার একটি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। জেনেভায় ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মুখপাত্র রাভিনা সামদাসানি বলেন, ‘যে বাহিনী হামলাটি চালিয়েছে, তদন্তের দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়।’
গত মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিহত মেয়েদের জানাজার দৃশ্য প্রচার করা হয়। ছোট ছোট কফিনগুলো ইরানের পতাকায় মোড়ানো ছিল। ট্রাক থেকে কফিনগুলো নামিয়ে জনতার ঢলের মধ্য দিয়ে কবরস্থানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।










