সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের অধীনে অনুষ্ঠেয় প্রথম সংসদীয় নির্বাচন দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সুইদা প্রদেশসহ আরো দুটি প্রদেশে আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী মাসে এ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। খবর রয়টার্স।

সুইদা প্রদেশে সম্প্রতি দ্রুজ যোদ্ধা ও সুন্নি বেদুইন উপজাতির মধ্যে সংঘর্ষে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে সরকারি বাহিনী পাঠানো হয়। এ অঞ্চলের প্রধানত দ্রুজ গোষ্ঠীর বসবাস, তবে সেখানে সুন্নি উপজাতিরও উপস্থিতি রয়েছে। জমি ও অন্যান্য সম্পদ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে।

সুইদার প্রধান দ্রুজ গোষ্ঠীগুলো নতুন সরকারকে উগ্রপন্থী আখ্যা দিয়ে সরকারি বাহিনীর উপস্থিতি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করতে চায়। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলেছে, নির্বাচন একটি সার্বভৌম বিষয় এবং এটি কেবল সেসব এলাকায় অনুষ্ঠিত হতে পারে, যা পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সুইদা ছাড়াও উত্তরাঞ্চলের হাসাকা ও রাকা প্রদেশেও নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এ প্রদেশগুলোর বেশির ভাগ এলাকা কুর্দি সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের নিয়ন্ত্রণে। সেখানে একটি ‘‌নিরাপদ পরিবেশ’ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ভোট হবে না বলে জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তে কুর্দি কর্তৃপক্ষ সমালোচনা করেছে। ডেমোক্রেটিক অটোনমাস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব নর্থ অ্যান্ড ইস্ট সিরিয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, এ নির্বাচন গণতান্ত্রিক নয় এবং সিরীয়দের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায় না। তাদের মতে, এটি প্রান্তিকীকরণ ও বর্জনের একটি কৌশলমাত্র। তারা আরো দাবি করে, অন্যান্য এলাকার তুলনায় তাদের অঞ্চলগুলো নিরাপদ।

আগামী ১৫-২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২১০ সদস্যের পিপলস অ্যাসেম্বলির ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে এ তিনটি প্রদেশের জন্য নির্ধারিত আসনগুলো নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত শূন্য থাকবে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাআ এর আগে বলেছিলেন, দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য চার-পাঁচ বছর সময় লাগবে।