ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার আল শিফা হাসপাতালে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে চার শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। গতকাল হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার তথ্য দপ্তর এ খবর দিয়েছে।
গাজার মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী, যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত মানুষ, মেডিকেল কর্মীসহ চার শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সৈন্যরা সেখানে ১৩ দিন ধরে অভিযান চালাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, আল শিফা গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল। গত বছরের নভেম্বরেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ওই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অভিযান চালিয়েছিল। চলমান যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি ওই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আশ্রয় নিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতারা হাসপাতালটি ব্যবহার করছেন—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হচ্ছে।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের হামলায় ৮২ জন নিহত হয়েছে। গতকাল ৫০টির বেশি বোমা হামলা করেছে ইসরায়েল। গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৭০৫।
হামাস গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায়। হামলার পরই শুরু হয় গাজার ওপর ইসরায়েলের আক্রমণ। ক্রমাগত নৃশংস হামলায় গাজার উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে ঘরবাড়িসহ অনেক স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে।
এদিকে কায়রোয় গতকাল ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরায় শুরু হচ্ছে বলে নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে মিসরের একটি টেলিভিশন স্টেশন।
ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা গতকাল কায়রোয় তাদের একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে হামাসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগে তারা কয়রোর মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতিনিধি দলের আলোচনা ফলাফল কী আসে তা দেখায় অপেক্ষায় রয়েছেন।
গত বছরের নভেম্বরের শেষের দিকে মাত্র এক সপ্তাহ স্থায়ী হয়েছিল প্রথম যুদ্ধবিরতি। তার পর থেকেই বন্দি বিনিময় ও গাজায় যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছার চেষ্টা করছে কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের প্রায় ছয় মাস পর চলতি সপ্তাহে গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাস হয়। এর পরই কায়রোর আলোচনা শুরু হচ্ছে।
এদিকে গত শনিবার ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে গাজায় আটক বন্দিদের স্বজনসহ হাজার হাজার মানুষ।










