রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের কৃষ্ণ সাগরের উপকূলে দুটি রুশ যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। শনিবার দিবাগত রাতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি। খবর রয়টার্স ও বিবিসি।
এক বিবৃতিতে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর কৌশলগত যোগাযোগ কেন্দ্র বলেছে, ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনী কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার দুটি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। এগুলোর একটি হলো সেনাবহনকারী জাহাজ ইয়ামাল এবং অন্যটি যোগাযোগ কেন্দ্র আজভ। তবে ইউক্রেনের এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। রাশিয়ার পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও পশ্চিমের লেভিভ অঞ্চলে আকাশপথে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। স্থানীয় সময় রোববার ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান সের্হি পপকো টেলিগ্রামে বলেন, ‘রাজধানী ও তার আশপাশে প্রায় এক ডজন রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রুশ হামলায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি বলে জানান পপকো।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো ম্যাসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে বলেছেন, ‘ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রুশ হামলা প্রতিহত করতে নামার পর রাজধানীতে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ হয়েছে। ইউক্রেনে বিমান হামলার বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য জানতে চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছিল রয়টার্স। তবে তারা এই অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।’
লেভিভের মেয়র আন্দ্রি সাদোভি টেলিগ্রামে বলেছেন, ‘শহরে কোনো হামলা হয়নি। তবে বিস্তৃত লেভিভ অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করে প্রায় ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও সাতটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।’
রুশ হামলার জেরে সীমান্তের কাছের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজেদের যুদ্ধবিমান সক্রিয় করেছে প্রতিবেশী পোল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনী।
রাশিয়া কয়েক দিন ধরেই ইউক্রেনে বিমান হামলা চালাচ্ছে। সদ্যসমাপ্ত রুশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় রাশিয়ায় দফায় দফায় হামলা চালিয়েছিল ইউক্রেন। এর প্রতিশোধ হিসেবে এখন ইউক্রেনে হামলা চালানোর কথা বলছে মস্কো।
রুশ হামলা নিয়ে ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রিজেট ব্রিঙ্ক আজ ভোরে এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই সপ্তাহে তৃতীয়বারের মতো ভোরের আলো ফোটার আগে পুরো ইউক্রেনকে বিমান হামলার সতর্কতার আওতায় রাখা হয়েছে। লোকজনকে নিরাপদে আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’
ব্রিজেট ব্রিঙ্ক আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে, লাখো বেসামরিক নাগরিকের কথা বিবেচনা না করে রাশিয়া নির্বিচারে ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে চলছে।’










