ছয় বছর আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্যারিসের নটর ডেম ক্যাথেড্রালের বিখ্যাত টাওয়ারগুলো। মেরামতের পর অবশেষে তা জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ আনুষ্ঠানিকভাবে টাওয়ারগুলো উদ্বোধন করেন। আর এর মাধমে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ‘পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে’র চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছাল। খবর সিবিসি নিউজ।

এ নিয়ে মাখোঁ এক্স-এ লিখেছেন,‘নটর ডেমের টাওয়ারগুলো জনসাধারণের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত। ক্যাথেড্রাল তার সমস্ত জৌলুশ ফিরে পাচ্ছে এবং আবারও প্যারিসের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপহার দিচ্ছে।’

মাখোঁর পুনর্গঠন বিষয়ক প্রতিনিধি ফিলিপ জোস্ট বলেন, ‘এটি এখন অনেকভাবে উন্নত করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য নতুন ভিউপয়েন্ট ও ঘোরার জায়গা যুক্ত করা হয়েছে, যা আগের চেয়ে অভিজ্ঞতাকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।’

২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল নটর ডেম ক্যাথেড্রালে ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রেসিডেন্ট মাখোঁ তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পাঁচ বছরের মধ্যে এটি পুনরুদ্ধার করা হবে। শুক্রবার এর টাওয়ারগুলো উন্মুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার সেই প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ পূরণ হল। দর্শনার্থীরা এখন ৪২৪টি সিঁড়ি বেয়ে টাওয়ারে উঠতে পারবেন এবং প্যারিস শহরের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।

ঐতিহাসিক এ গোথিক গির্জাটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকেই জনসাধারণের জন্য পুনরায় খুলে দেয়া হয়। সে সময় থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার জন দর্শনার্থী সেখানে প্রবেশ করছে।

ক্যাথেড্রাল পুনরায় উদ্বোধনের সময় ইমানুয়েল মাখোঁ বিশ্ব নেতাদের আমন্ত্রণ জানান। তাদের মধ্যে ছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ব্রিটেনের প্রিন্স উইলিয়াম, এবং তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট (ইলেক্ট) ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ক্যাথেড্রাল পুনর্গঠনে খরচ হয়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। ১২ শতকের স্থাপনাটি আগুনের পর স্থিতিশীল করতে স্ক্যাফোল্ডিং ব্যবহার করা হয়। ড্রোন ও কম্পিউটার অ্যানিমেশন ব্যবহার করে শত শত কারিগর পুনর্নির্মাণে অংশ নেন। ভবিষ্যতের অগ্নিকাণ্ড ঠেকাতে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ধাতব ট্রাস-ও স্থাপন করা হয়েছে।

টাওয়ার পুনরায় খুলে দেয়া হলেপ ক্যাথেড্রালের পূর্ব দিকের অ্যাপ্স অংশে সংস্কার কাজ এখনো চলছে। ফিলিপ জোস্ট জানিয়েছেন, ‘আমাদের কাজ শুধু আগুন-সম্পর্কিত ক্ষতি নয়, বরং ক্যাথেড্রালের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণও অন্তর্ভুক্ত করেছি।’

টাওয়ার পরিদর্শনের জন্য এখন ১৬ ইউরো মূল্যের টিকিট অনলাইনে কিনতে হবে, যেখানে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১৯ জন প্রবেশ করতে পারবেন। প্রথম দুই দিনের টিকিট মাত্র ২৪ মিনিটে বিক্রি হয়ে যায়।