দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ আর্জেন্টিনায় মশাবাহিত প্রাণঘাতী রোগ ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। একই সঙ্গে দেশটিতে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের তীব্র সংকট। এতে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর বিবিসি।
দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আর্জেন্টিনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৪১৯ জন। তবে দেশটির প্রদেশিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়গুলো থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আর্জেন্টিনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ লাখ মানুষ এবং তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১ হাজার জন।
বিবিসি জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স এইরেসের অধিকাংশ ওষুধের দোকানগুলোতে ‘ডেঙ্গুর ওষুধ নেই’- নোটিস ঝুলছে। হাতে গোনা কয়েকটি দোকানে ও অনলাইনে ওষুধ পাওয়া গেলেও দাম সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
আর্জেন্টিনার সরকার অবশ্য শিগগিরই এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। বেতার সংবাদমাধ্যম রেডিও কন্টিনেন্টালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী মারিও রুশো বলেছেন, ‘সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু সমস্যা থাকায় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এটি সাময়িক, শিগগিরই সমাধান করা হবে।’
আর্জেন্টিনার ওষুধ কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, কাঁচামাল সংকটের কারণে তারা ওষুধ তৈরি করতে পারছেন না। এ সংকট সমাধানে আরো কয়েক মাস লাগবে বলে ধারণা তাদের।
আমেরিকা মহাদেশভুক্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত আন্তঃসরকার সংস্থা প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের (পাহো) তথ্য অনুসারে, চলতি ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে যত মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের হার গত বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় অন্তত ৩ গুণ বেশি।










