ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা ও তীব্র ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত বাস্তচ্যুত গাজাবাসী। এ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও থেমে নেই ইসরায়েলি হামলা। ফিলিস্তিনের বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, গতকাল বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন রাফাহ সীমান্তের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি।

রাতের ভারী বর্ষণে রাফা সীমান্তে একটি শরণার্থী শিবিরে তাঁবুর চারপাশে সৃষ্ট খাদ বালি দিয়ে ভরাট করতে দেখা যায়। প্রতিটি তাঁবুর সামনে ঝুলছে ভেজা কাপড়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরণার্থীদের তুলনায় শিবিরে তাঁবুর সংখ্যা খুবই কম। কোনোভাবে মাথা গোজার ঠাঁই পেলেও বেশির ভাগ পরিবারই খারাপ অবস্থায় দিনপাত করছে। তারা পাতলা পলিথিনের তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেককেই বালুর মেঝের ওপর রাত কাটাচ্ছেন।

রাফাহ সীমান্তের ওই শরণার্থী শিবিরের করুণ দশা জানিয়েছেন আশ্রয় নেয়া আজিজা আল-শাবরাভি। সন্তানদের নিয়ে কোনোমতে একটি তাঁবুতে আশ্রয় পান। যা গত রাতের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে।

৩৮ বছর বয়সী ওই নারী বলেন, আমি আর আমার বাচ্চারা গত রাতে তাঁবু থেকে বৃষ্টির পানি সরানোর চেষ্টা করেছি। তবে তাতে কোনো লাভ হয়নি।  

বৃষ্টি ও ঠাণ্ডায় পরিবারের নাজুক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে বলেন, তীব্র ঠাণ্ডায় আমার ছেলেটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমার মেয়েটি এ ঠাণ্ডায় কাদা-পানিতে হেঁটে বেড়াচ্ছে। মনে হচ্ছে আমরা ভিক্ষুক। এখানে আমাদের সাহায্য করার কেউ নেই।

মাইক্রো ব্লগিং প্লাটফর্ম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, গতকালের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট। বন্যার পানি ভেঙে কাফনে মোড়ানো শিশুর লাশ বয়ে নিয়ে যেতেও দেখা গেছে ভিডিওতে।