বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার বুকার। এবার শিশু সাহিত্যের জন্য ‘চিলড্রেনস বুকার প্রাইজ’ নামে নতুন পুরস্কার চালুর ঘোষণা করেছেন এর আয়োজকেরা। পুরস্কারের বিচারকদের মধ্যে থাকবেন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েই।

শিশু সাহিত্যের জন্য এ পুরস্কারটি ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে এবং ২০২৭ সাল থেকে প্রতি বছর প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য রচিত সেরা সমসাময়িক কথাসাহিত্যকে স্বীকৃতি দেয়া হবে। খবর বিবিসি।

২০০৪ সালে প্রকাশিত জনপ্রিয় বই ‘মিলিয়নস’-এর লেখক এবং যুক্তরাজ্যের শিশু সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ী সাহিত্যিক ফ্রাঙ্ক কট্রেল বয়েস, ২০২৭ সালের প্রথম চিলড্রেনস বুকার প্রাইজের বিচারকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অনভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ফ্রাঙ্ক বয়েস বলেন, ‘আমি বিচারকমণ্ডলীর নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছি— এ খবর শুনে দারুণ উচ্ছ্বসিত। এটা একেবারে অসাধারণ একটি কাজ হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে পুরস্কারটির আনন্দধ্বনি শুরু হোক।’

জানা গেছে, কট্রেল বয়েস এবং আরো দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক বিচারক প্রথমে আটটি বইয়ের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবেন। এরপর চূড়ান্ত বিজয়ী বইটি বেছে নিতে তিনজন শিশু বিচারক প্যানেলে যুক্ত হবেন ।

বুকার প্রাইজ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী গ্যাবি উড বলেন, ‘চিলড্রেনস বুকার প্রাইজ আমাদের গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগ। আমরা আশা করি এর প্রভাব দীর্ঘ দশকজুড়ে প্রতিধ্বনিত হবে।’

সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ও বিজয়ী বইগুলোর মধ্যে অন্তত ৩০ হাজার কপি শিশুদের মধ্যে উপহার হিসেবে বিতরণ করা হবে। উড আরো বলেন, ‘এ পুরস্কারের উদ্দেশ্য হলো— ভবিষ্যতের ক্লাসিক বইগুলোকে সম্মান জানানো। এবং আরো বেশি তরুণ পাঠককে বই পড়তে অনুপ্রাণিত করা।’

এ ঘোষণাকে খ্যাতিমান অন্যান্য লেখক এবং সাবেক শিশু সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ীরাও স্বাগত জানিয়েছেন।
শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য লেখা উপন্যাসের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এবং খ্যাতনামা ব্রিটিশ শিশু সাহিত্যিক ড্যাম জ্যাকলিন উইলসন বলেছেন, ‘এটি এক দারুণ উদ্যোগ।’

চিলড্রেনস বুকার প্রাইজ হবে আন্তর্জাতিক বুকার প্রাইজের মতোই। সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত প্রত্যেক লেখক পাবেন ২৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড, আর বিজয়ী লেখক পাবেন ৫০ হাজার পাউন্ড।

এই পুরস্কারের জন্য প্রকাশকরা ২০২৬ সালের বসন্তে বই জমা দিতে পারবেন। সেসময় অবশিষ্ট দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক বিচারকের নামও ঘোষণা করা হবে।

জমাকৃত বই থেকে বাছাই করা আটটি বইয়ের সংক্ষিপ্ত তালিকা ও তিনজন শিশু বিচারকের নাম ২০২৬ সালের নভেম্বরে প্রকাশ করা হবে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তরুণ পাঠকদের জন্য আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।

পুরস্কারটি বিশ্বের যেকোনো লেখকের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। শর্ত হলো, বইটি মূলত ইংরেজিতে লেখা অথবা ইংরেজিতে অনূদিত হতে হবে; এবং তা ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যুক্তরাজ্য বা আয়ারল্যান্ডে প্রকাশিত হতে হবে।

এ পুরস্কারের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ন্যাশনাল লিটারেসি ট্রাস্ট জানিয়েছে, শিশুদের আনন্দের জন্য বই পড়ার হার গত ২০ বছরে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। পাঠাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে তারা ২০২৬ সালকে ‘ন্যাশনাল ইয়ার অব রিডিং’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।