পুরো গাজা উপত্যকা দখলে নেয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা। সোমবার ওই ভোটাভুটির পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে এক তীব্র সামরিক অভিযান শুরু করে সম্পূর্ণ গাজা দখলে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে তার দেশ।

২০০৫ সালে দীর্ঘ দখলদারত্ব শেষে ইসরায়েল গাজা থেকে সরে দাঁড়ায়। তবে এর পর থেকে মিসরের সঙ্গে মিলে উপত্যকার ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে। সোমবারের ঘোষণায় পুনর্দখলের প্রকৃত কাঠামো বা মেয়াদ নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। তবে এমন পদক্ষেপ গাজার ভেতরে আবারো ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের আশঙ্কা তৈরি করছে।

ইসরায়েলি নেতারা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের আগে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হবে না। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, গাজা দখলের পরিকল্পনা হয়তো হামাসকে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় চাপ দেয়ার কৌশল হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে।

নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এ অভিযান হবে পূর্ববর্তী অভিযান থেকে আলাদা। এ অভিযানের ফলে বহু ফিলিস্তিনিকে স্থানান্তরিত হতে হবে।’

ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টার ‘কান’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পরিকল্পনাটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে এবং এতে কয়েক মাস সময় লাগবে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার পুরো ভূখণ্ড দখল করে বেসামরিক জনগণকে দক্ষিণে সরিয়ে নেয়া হবে এবং মানবিক সাহায্য যেন হামাসের হাতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা হবে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এরই মধ্যে গাজার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা দখল করে সেখানে ওয়াচ টাওয়ার ও নজরদারি পোস্ট তৈরি করেছে। ওই অঞ্চলকে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।

হামাস নেতা মাহমুদ মারদাউই ইসরায়েলের এ পরিকল্পনাকে ‘চাপ ও হুমকি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি ছাড়া কোনো সমাধান হবে না; যার মধ্যে থাকবে যুদ্ধবিরতি, গাজা থেকে সম্পূর্ণ ইসরায়েলি প্রত্যাহার, পুনর্গঠন এবং বন্দি বিনিময়।’

এ পদক্ষেপ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আশাকে আরো অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। গাজার জনগণের গভীর বৈরিতা ও আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র ধারণার বিপরীতে এটি একটি বড় রাজনৈতিক বাধা তৈরি করবে। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন ইসরায়েল ট্রাম্পের গাজা দখল ও ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র পুনর্বাসনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ খুঁজছে।

ফিলিস্তিনিরা গাজাকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখে আসছে, শাসক যে-ই থাকুক না কেন। বিশ্বের অধিকাংশ দেশের অবস্থানও গাজাসহ একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে।

এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একদিনে চারটি দেশে হামলা চালিয়েছে। গতকাল কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে অন্তত ৫৪ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এছাড়া ইসরায়েল একই দিনে ইয়েমেন, লেবানন ও সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে। আল জাজিরা বলেছে, ইয়েমেনের হোদেইদায় অন্তত ৩০টি যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এছাড়া লেবানন ও সিরিয়ায়ও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।