সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর দুই গ্রুপের যুদ্ধের এক বছর পর দুর্ভিক্ষে পড়েছে সুদান। ক্ষুধায় মারা যাচ্ছে শিশুরা, দেশটিতে অসুস্থ মানুষ অর্থ খরচ করে ওষুধ না কিনে সেই অর্থ দিয়ে খাবার কিনে খাচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশটিতে মানবিক বিপর্যয় ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। খবর আল জাজিরা। দেশটির স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমের (ইআরআর) মুখপাত্র মুখতার আতিফ বলেন, ‘না খেতে পেয়ে নীরবে মারা পড়ছে সাধারণ মানুষ।’
জাতিসংঘ বলছে, সুদানের জনসংখ্যার অর্ধেক প্রায় আড়াই কোটি মানুষের খাদ্যসহায়তা দরকার। নাম প্রকাশ না করার সূত্রে জাতিসংঘের একটি সূত্র বলছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ত্রাণ হিসেবে খাবার পৌঁছে দেয়া বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষ একে অন্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোয় খাবার প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
ডব্লিউএফপির কর্মকর্তা ও কর্মীরা জানিয়েছেন, বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের কম খাবার খাওয়াচ্ছেন। তাদের শেষ সম্বল বিক্রি করছেন, অর্থের জন্য ভিক্ষা করছেন বা ওষুধ থেকে খাবারের জন্য অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন।
গত বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর দ্বন্দ্বের জেরে প্রকাশ্যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে দুই গ্রুপ।
যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে কৃষি উৎপাদন অনেক কমে যায়। গত এক বছরে দেশটিতে খাদ্যের দাম বেড়েছে এবং পর্যাপ্ত খাবারও পাওয়া যাচ্ছে না।
দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ রাজধানী খার্তুমকে কেন্দ্র করে চলছে। যুদ্ধ শুরুর পর এ অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধের ফলে খাদ্য ও ত্রাণবাহী যানবাহনের নিয়মিত চলাচলকে মারাত্মকভাবে সীমিত করা হয়েছে এবং সুদানে ক্ষুধার সংকট আরো গভীর হয়েছে।
সরকারি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সুদানের এক পোর্ট দিয়ে আধাসামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বেসামরিক মানুষের জন্য পাঠানো সহায়তা বেশ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক দিন থেকে সপ্তাহ পর্যন্ত সময় নিতে পারে। গত জানুয়ারিতে ৭০টিরও বেশি ট্রাক ছাড়পত্রের জন্য দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এ বন্দরে অপেক্ষায় ছিল।
প্রায় দুই মাস মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধের কারণে খাদ্য সংকট আরো জটিল হয়েছে। এ সময় মানুষের বিদেশে থাকা আত্মীয়দের পাঠানো রেমিট্যান্সও সংগ্রহ করতে পারেনি তারা।
১৬ মার্চ একটি ল্যানসেট রিপোর্টে বলা হয়, ক্ষুধার সংকটের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার পতন হয়েছে। রাজধানী খার্তুমের একমাত্র অবশিষ্ট শিশুস্বাস্থ্য সুবিধাবেষ্টিত আল-বালুক হাসপাতালে প্রতি সপ্তাহে দুই বা তিনটি শিশু ক্ষুধায় মারা যায়।
যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, আগামী মাসে ক্ষুধার কারণে ২ লাখ ৩০ হাজার শিশু, গর্ভবতী নারী ও নতুন মা মারা যেতে পারেন।
ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও) গত সপ্তাহে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৩ সালে সুদানের শস্য উৎপাদন প্রায় অর্ধেক হয়। ইউনিসেফ বলছে, এরই মধ্যে ছোট শিশুদের অপুষ্টির পাশাপাশি কলেরা, হাম ও ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।










