মিয়ানমারে আগামী মাস থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। তহবিলের মারাত্মক ঘাটতির কারণে এ সহায়তা বন্ধ করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের সংস্থাটি। খবর রয়টার্স।

গতকাল এক বিবৃতিতে ডব্লিউএফপি জানায়, সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন সংঘাত বৃদ্ধি ও বাস্তুচ্যুতি খাদ্যের চাহিদা আরো বাড়িয়ে তুলেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে যে এ কাটছাঁটের ফলে এমন জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যারা সম্পূর্ণভাবে তাদের খাদ্যের জন্য ডব্লিউএফপির ওপর নির্ভরশীল।

নিজেদের বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সহায়তা সংস্থা হিসেবে দাবি করে ডব্লিউএফপি সাম্প্রতিক মাসগুলোয় জানিয়েছে, অর্থায়নের অভাবে আফগানিস্তান, আফ্রিকার কিছু অংশ এবং বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে তাদের কার্যক্রমে কাটছাঁট করতে হতে পারে, যার ফলে লাখো মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে।

২০২১ সালের শুরুর দিকে সামরিক বাহিনী গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার। এ ঘটনার পর গণবিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে একটি দেশব্যাপী সশস্ত্র বিদ্রোহে পরিণত হয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে মিয়ানমারের প্রায় দুই কোটি মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। আর দেড় কোটির বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে রয়েছে। এ সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ।

এ ব্যাপারে জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের মুখপাত্রের কাছে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস শুক্রবার (গতকাল) বাংলাদেশের কক্সবাজারে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন, যেখানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। সেখানে ডব্লিউএফপির খাদ্য সহায়তা আগামী এপ্রিল থেকে অর্ধেক কমিয়ে মাসে মাত্র ৬ ডলার করে দেয়া হতে পারে।

শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের সময় এন্তোনিও গুতেরেস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে আমরা এ পরিস্থিতি এড়াতে সবকিছু করব। আমি বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে আলোচনা করব, যারা আমাদের সহায়তা করতে পারে, যেন এ খাদ্য সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল নিশ্চিত করা যায়।’

তবে ডব্লিউএফপি তাদের অর্থ সংকট সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বা এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক বৈদেশিক সাহায্য কাটছাঁটের সিদ্ধান্তের কারণে হয়েছে কিনা সে বিষয়েও কোনো মন্তব্য করেনি।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এ বছর মিয়ানমারে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম বজায় রাখতে তাদের ৬০ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। এ খাদ্য সহায়তা কাটছাঁটের ফলে সারা মিয়ানমারে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিভিন্ন সম্প্রদায়, যার মধ্যে রয়েছে প্রায় এক লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং অন্যান্য সম্প্রদায়।

সংস্থাটি আরো সতর্ক করেছে যে ‘আসন্ন জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চরম খাদ্য সংকটের মৌসুমে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।’

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, মিয়ানমারের সংঘাত দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ল্যান্ডমাইন ও অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের মাধ্যমে কৃষিজমি দূষিত করেছে এবং কৃষি সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে। ফলে স্থানীয়ভাবে খাদ্য উৎপাদন আরো কঠিন হয়ে উঠেছে। তারা বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যেখানে আবাদযোগ্য জমি রয়েছে, সেখানেও শ্রমিক সংকট রয়েছে, কারণ ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং সামরিক বাহিনীর জোরপূর্বক নিয়োগের ভয়ে মানুষ পালিয়ে যাচ্ছে।’