তুরস্কে স্থানীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল দেশটির ৮১টি প্রদেশ, ৯৭৩টি জেলা, ৩৯০টি শহরের পাশাপাশি ৫০ হাজার মুখতার (স্থানীয় প্রধান), প্রাদেশিক পরিষদ ও মিউনিসিপ্যাল পরিষদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনটি তুরস্কের রাজনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ইস্তানবুল ও আঙ্কারার মেয়র পদের দিকে সবার নজর। গুরুত্বপূর্ণ এ দুই শহরের নিয়ন্ত্রণ আবার এরদোগানের কাছে আসবে কিনা এর ওপর তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অনেক কিছু নির্ভর করছে। খবর আল জাজিরা।
এমন সময় স্থানীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে যখন দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬৭ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার মান একেবারে তলানিতে ঠেকেছে।
এ ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ হবে রাজধানী আঙ্কারা ও অর্থনৈতিক শহর ইস্তানবুলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। ২০১৯ সালে এরদোগানের দল এ কে পার্টির হাতছাড়া হয়ে যায় শহর দুটি। তখন অবশ্য তিনিই প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার পরও ওই নির্বাচনে এরদোগানের প্রার্থী ও তৎকালীন মেয়র বিনালি ইলদিরিমকে হারিয়ে মেয়র হন বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) প্রার্থী একরাম ইমামোগলু। এবার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রত্যাশী ইমামোগলুর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন এরদোগানের দল এ কে পার্টির প্রার্থী সাবেক পরিবেশমন্ত্রী মুরাত কুরুম।
ইমামোগলু এখনো জনপ্রিয়। তবে ২০১৯ সালে যে জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি জয়ী হয়েছিলেন তা এখন ভেঙে গেছে। এরদোগান শিবির আশা করছে যে এ বিভক্তিকে কাজে লাগিয়ে তাদের প্রার্থী জয়ী হতে পারবেন।
গত বছর পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তৃতীয় মেয়াদে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হন এরদোগান। এবার তাই শহর দুটিতে জিতে প্রশাসনিক ক্ষমতা ফিরে পাওয়াই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এরদোগানের জন্য।
উল্লেখ্য, ৭০ বছর বয়স্ক এরদোগান ইস্তানবুলে জন্মগ্রহণ করেছেন ও বেড়ে উঠেছেন। ১৯৯৪ সালে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ শহরটির মেয়র নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। আর এবারের নির্বাচনে শহর দুটিতে এ কে পার্টি জিতলে বর্তমান মেয়াদ ২০২৮ সালের পরও এরদোগান প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকার সুযোগ তৈরি করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফলে এ নির্বাচনকে তুরস্কের ভবিষ্যতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের ইউরোপীয় ইনস্টিটিউটের ফেলো সেলিন নাসির বলেন, ‘ইস্তানবুল জয়কে তুরস্কের বিজয় বলে মনে করা হয়। এটি যেমন অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে তেমনি ৩০ বছর আগে বিস্ময়কর বিজয়ের মাধ্যমে মেয়র হওয়ায় এরদোগান নিজেই এর গভীর প্রতীকী তাৎপর্য বহন করেন।’
ইস্তানবুলের কাদির হাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র রাজনৈতিক বিশ্লেষক সোলি ওজেল বলেছেন, ‘ইস্তানবুল ও আঙ্কারার মতো অন্য বড় শহরগুলোয় বিরোধীদের পরাজয় কাটিয়ে উঠতে এক দশক সময় লাগতে পারে। তবে এর ব্যতিক্রম হয়ে একরাম ইমামোগলু জয়ী হলে সম্ভবত তিনি জাতীয় ক্ষমতার পথ ধরবেন।’










