দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় কোনো প্রধানমন্ত্রী টানা দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হলেন। কেন্দ্র-বামপন্থী লেবার পার্টির নেতা অ্যান্থনি আলবানিজ এবারের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এ রেকর্ড গড়লেন। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ভোটাররা এবারের নির্বাচনে অংশ নেন। খবর এপি।

বিরোধী লিবারেল পার্টির নেতা পিটার ডাটন গতকাল রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পরাজয় মেনে নেন। তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনী প্রচারে আমরা যে ভালো করতে পারিনি, তা আজকের ফলাফলেই স্পষ্ট। এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমি নিচ্ছি।’ তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে অভিনন্দন জানান ও লেবার পার্টির জন্য এটি একটি ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ বলেও উল্লেখ করেন।

অস্ট্রেলিয়ান ইলেকটোরাল কমিশনের তথ্যানুযায়ী, লেবার পার্টি পেয়েছে ৭০টি আসন, যেখানে ১৫০ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। অন্যদিকে বিরোধী জোট পেয়েছে মাত্র ২৪টি আসন এবং নির্দল ও ছোট দলগুলো মিলিয়ে পেতে পারে ১৩টি আসন। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের নির্বাচনী বিশ্লেষক অ্যান্টনি গ্রিনের মতে, লেবার পার্টি ৭৬টি আসন জিততে পারে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট।

এবারের নির্বাচনে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি নীতি। দুই প্রধান দলই স্বীকার করেছে যে দেশটি এখন জীবনযাত্রার ব্যয়জনিত সংকটে রয়েছে। তবে এ সংকট থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে তাদের প্রস্তাব ছিল ভিন্ন।

লিবারেল পার্টির দাবি, সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ই মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বাড়ার পেছনে দায়ী। দলটি খরচ কমাতে সরকারি চাকরির ২০ শতাংশ ছাঁটাইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ডাটন আরো জানান, সৌর ও বায়ুশক্তির তুলনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবে।

অন্যদিকে লেবার পার্টি এ পরিকল্পনাকে কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশলের অনুকরণ। প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, ‘এখানে আমেরিকান স্টাইলে বিভক্তির রাজনীতি চালানোর চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু সেটি অস্ট্রেলিয়ার পথে নয়।’

আলবানিজ জানান, তার সরকার চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করেছে। ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে চীন বেশ কয়েকটি বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা তুলে নিয়েছে, যা আগের বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার ক্ষতি করত রফতানিকারকদের।

অর্থনৈতিক চাপ অস্ট্রেলিয়ার জন্য এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ফুডব্যাংক অস্ট্রেলিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ২ কোটি ৭০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৩৪ লাখ পরিবার খাদ্য অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেব্রুয়ারিতে সুদের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে নামিয়েছে। আগামী ২০ মে সুদের হার আরো কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া এবারের নির্বাচনটি ছিল একটি প্রজন্মগত পরিবর্তনের ইঙ্গিতও। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ায় বেবি বুমারদের চেয়ে তরুণ ভোটারের সংখ্যা বেশি ছিল। ফলে উভয় দলই প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনার মতো নীতিতে জোর দেয়।

জয়লাভের মাধ্যমে লেবার পার্টি স্থিতিশীলতা পেলেও সামনের দিনগুলোয় অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করাই হবে আলবানিজ সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।