ক্ষমতায় আসার পরই যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডিতে অর্থায়ন বন্ধের নির্বাহী আদেশের সই করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলো। এসব দেশের বিশেষ করে চিকিৎসা খাতে অর্থায়নের অন্যতম উৎস ছিল সংস্থাটি। এর মধ্যে আফ্রিকায় ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় একক অর্থায়নকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। চলতি মাসে আফ্রিকায় শুরু হয়েছে প্রাণঘাতী ম্যালেরিয়ার মৌসুম। মার্কিন অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ মৌসুমে আফ্রিকার দেশগুলো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি মৌসুমে আফ্রিকার সবচেয়ে দরিদ্র সম্প্রদায়ের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে ম্যালেরিয়া। খবর এপি।
উগান্ডার ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক ডা. জিমি ওপিগো জানান, জানুয়ারিতে ইউএসএআইডির তহবিল বন্ধ হওয়ায় তারা এখন দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল বন্ধ হওয়ায় এরই মধ্যে ম্যালেরিয়ার ওষুধ ও মশারির সরবরাহ কমতে শুরু করেছে। ডা. ওপিগো ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী ওষুধ ও কীটনাশকযুক্ত মশারির গুরুত্ব বোঝাতে বলেন, ‘এগুলো আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মতো। ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে এগুলোর সরবরাহ অব্যাহত থাকা জরুরি।’
ডা. ওপিগোর আশঙ্কা, বছরের শেষের দিকে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে, যা অঙ্গ বিকলসহ মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি জানান, আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে ম্যালেরিয়া ভ্যাকসিন চালু করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ কার্যকর না হলেও একটি বৈশ্বিক ভ্যাকসিন জোটের সহায়তায় এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা ‘ম্যালেরিয়া নো মোর’ সতর্ক করে বলছে, যদি এক বছরের জন্য ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ সরবরাহ ব্যাহত হয়, তবে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ নতুন সংক্রমণ দেখা দেবে। এছাড়া মৃত্যু ঘটবে ১ লাখ ৭ হাজার অতিরিক্ত মানুষের। তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে অনুরোধ করেছে যেন এ জীবনরক্ষাকারী কর্মসূচিগুলো দ্রুত পুনরায় চালু করা হয়। তা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী ম্যালেরিয়ায় প্রায় ৫ লাখ ৯৭ হাজার মানুষ মারা গেছে। যার ৯৫ শতাংশ আফ্রিকায়। আফ্রিকার সবচেয়ে ম্যালেরিয়াপ্রবণ দেশ নাইজেরিয়া, কঙ্গো ও উগান্ডার স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তা বন্ধ হওয়ার পর তারা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইউএসএআইডির নেতৃত্বাধীন ম্যালেরিয়া উদ্যোগের মাধ্যমে এ তিনটি দেশে শত শত মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল প্রায়ই বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), চিকিৎসা দাতব্য সংস্থা ও ধর্মভিত্তিক সংগঠনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ ও চিকিৎসা আরো সহজলভ্য হয়ে উঠেছিল। এমনকি গ্রাম এলাকায় বিনামূল্যেও প্রদান করা হয়েছে। এখন তহবিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপর্যকর পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।










