সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ অনুগতদের মধ্যে দুদিনের সংঘর্ষে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। একটি যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। এটি সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার ১৪ বছরে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি। খবর এপি।
ব্রিটেনভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, গত দুদিনে ৭৪৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। যাদের বেশির ভাগকে কাছ থেকে গুলি করা হয়। এছাড়া ১২৫ জন সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও ১৪৮ জন আসাদ অনুগত মারা গেছে। এদিকে লাতাকিয়া শহরের বড় অংশে বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরানোর তিন মাস পর ক্ষমতা গ্রহণ করেছে দামেস্কের বিদ্রোহীদের সরকার। গত বৃহস্পতিবার নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ নতুন নতুন সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এ ঘটনাকে বড় আকারে দেখতে নারাজ দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার। এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে অভিহিত করে তারা বলছে, আসাদ সমর্থিত বাহিনীর অবশিষ্ট সদস্যদের হামলার উপযুক্ত জবাব দেয়া হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকরা ঘটনাটি আসাদ সরকার উৎখাত করা সিরিয়ার সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন।
সরকারপন্থী বন্দুকধারীরা শুক্রবার আসাদ অনুগত আলাউইত সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করলে সংঘর্ষের শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বন্দুকধারীরা আলাউইতদের রাস্তা ও বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করেছে। তাদের বাড়িঘর লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আত্মগোপনে থাকা সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের দুই বাসিন্দা বলেন, ‘হাজারো মানুষ নিরাপত্তার জন্য পাহাড়ের দিকে পালিয়ে গেছে।’
সহিংসতায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি বানিয়াসের রাস্তায় ও বিভিন্ন ঘরবাড়িতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কেউ সেগুলো উদ্ধার করতে পারেনি। বন্দুকধারীরা মরদেহ সরাতে বাধা দিয়েছে। অন্তত ২০ জন আলাউইতকে তাদের বাড়ি ও দোকানে হত্যা করেছে। পরিবারসহ পালিয়ে যাওয়া আলি শেহা এ ঘটনাকে ‘প্রতিশোধমূলক হত্যা’ বলে অভিহিত করেন। কিছু বন্দুকধারী বিদেশী যোদ্ধাকে এলোমেলো গুলি চালাতেও দেখা গেছে। তারা পরিচয়পত্র দেখে ধর্ম যাচাই করে হত্যা করেছে ও লুটপাট চালিয়েছে।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান রামি আব্দুর রহমান এ ঘটনাটে সিরিয়ার সংঘাতের অন্যতম বড় হত্যাযজ্ঞ বলে উল্লেখ করেন। সংস্থাটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে নিহতের সংখ্যা ছয় শতাধিক। তবে সিরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে হতাহতের কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সরকারি বাহিনী আসাদপন্থীদের কাছ থেকে বেশির ভাগ এলাকা পুনর্দখল করেছে। পাশাপাশি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সব উপকূলীয় সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে। তুওয়াইম গ্রামে প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ডে ৩১ জন নিহত হয়েছে। যার মধ্যে শিশু ও নারীও ছিল। তাদের গণকবরে দাফন করা হয়েছে।
নতুন করে সংঘর্ষের কারণে দেশ ছাড়ার ঘটনাও ঘটেছে। লেবাননের আইনপ্রণেতা হায়দার নাসের জানান, বিশেষ করে আলাউইতরা নিরাপত্তার জন্য লেবাননে পালিয়ে যাচ্ছে। কিছু মানুষ রাশিয়ার হামেইমিম বিমানঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে ফ্রান্স সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।










