প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে ট্রাম্পের এক মন্তব্যকে নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ফ্লোরিডায় এক রক্ষণশীল খ্রিস্টান গোষ্ঠী আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছিলেন ট্রাম্প। সেখানে এ প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জানান, নভেম্বরে তাকে ভোট দিলে চার বছর পর তাদের আর ভোট দিতে হবে না। কী কারণে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেছেন সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা এবার বেরিয়ে এসে ভোট দিন, এরপর আর এসব করতে হবে না। আর চার বছর, তার পরই সব ঠিক হয়ে যাবে। চার বছরে আপনাদের আর ভোট দিতে হবে না। আমরা সবকিছু ঠিক করে দেব, যাতে আপনাদের আর ভোট দিতে না হয়।’

এ সময় ট্রাম্প বলেন, ‘এ নভেম্বরে কমলা হ্যারিসের উদারপন্থী চরমপন্থাকে নাকচ করে দেবে আমেরিকার মানুষ।’

এর আগে গত মাসেও খ্রিস্টানদের প্রতি আগামী নভেম্বরে তার পক্ষে গণভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। শুধু তা-ই নয়, তিনি নির্বাচিত হলে তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে ‘কঠোরভাবে’ সুরক্ষা করবেন বলে অঙ্গীকার করেন।

জুনে রক্ষণশীল অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ফেইথ অ্যান্ড ফ্রিডম কোয়ালিশনের ওয়াশিংটন কনফারেন্সে ট্রাম্প কয়েকশ সমর্থকের উদ্দেশে বলেন, ‘ইভানজেলিক্যালস এবং খ্রিস্টানরা যতটা ভোট দেয়া উচিত ততটা দেয় না। তারা প্রতি রোববার গির্জায় যায়, কিন্তু ভোট দেয় না।’

ওই সভায় সমর্থকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের স্কুলে, সামরিক বাহিনীতে, সরকারে, আমাদের কর্মক্ষেত্রে, আমাদের হাসপাতালে ও আমাদের পাবলিক স্কয়ারে খ্রিস্টানদের রক্ষা করব।’

মার্কিন জনসংখ্যার প্রায় ৬৮ শতাংশ খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী। নির্বাচনী প্রচারাভিযানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ভোটব্যাংক নিজের পক্ষে নিতেই কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প।

তবে ‘চার বছর পর ভোট দিতে হবে না’—এমন মন্তব্য ট্রাম্প কেন করেছেন সে বিষয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স প্রচারের দায়িত্বে থাকা কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে তারা কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। কমলা হ্যারিসের প্রচারের দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারাও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে কমলা হ্যারিসের মুখপাত্র জ্যাসন সিঙ্গার ওই মন্তব্যকে ‘অদ্ভুত’ ও ‘পশ্চাদ‌্মুখী দৃষ্টিভঙ্গি’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।

ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের পরই এক্স হ্যান্ডলে হইচই পড়ে যায়। অতীতে একবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যদি নভেম্বরে তিনি ক্ষমতায় ফেরেন, তবে একদিনের জন্য তাকে একনায়কের ভূমিকায় দেখা যাবে এবং মেক্সিকোর সঙ্গে দক্ষিণের সীমান্ত তিনি বন্ধ করে দেবেন। যদিও পরে তিনি ওই মন্তব্যকে মজা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এবার ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এ মন্তব্যের পর সমাজমাধ্যমে আবার ঘুরেফিরে আসছে ‘একনায়ক’-মন্তব্যের খোঁচা।