পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ায় প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান বিপুল ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সামিয়া সুলুহু হাসান ৯৭ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে পাঁচ বছরের নতুন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকছেন। তবে বিরোধী দল চাদেমা এ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, নির্বাচনে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। ভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। খবর রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান।

প্রধান বিরোধী দল চাদেমা নির্বাচনের আগেই ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল। দলটির দাবি, তাদের নেতা টুন্ডু লিসু রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতারের পর নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকেই দলটিকে বাদ দেয়া হয়। চাদেমার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটি কোনো সত্যিকারের নির্বাচন নয়, বরং সম্পূর্ণ সাজানো ফলাফল।’

ভোট চলাকালে বিভিন্ন শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানানো হয়, কিছু বিক্ষোভকারী প্রেসিডেন্ট হাসানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

বিরোধী দলের দাবি, এসব ঘটনায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে, তিন শহরে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সরকার বলেছে, বিরোধী দলের দাবি ‘অত্যন্ত অতিরঞ্জিত’।

ভোটের পর রাজধানী দোদোমায় আনুষ্ঠানিক ভাষণে প্রেসিডেন্ট হাসান বলেন, ‘তানজানিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস নেই। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় আমাদের সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বিক্ষোভকারীদের কর্মকাণ্ডকে ‘দায়িত্বহীন ও দেশপ্রেমবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিশ্লেষকরা বলেন, এ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হাসানের কার্যত কোনো বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। প্রধান বিরোধী নেতা টুন্ডু লিসু ও আরেক নেতা লুহাগা এমপিনা নির্বাচন কমিশন আগেই অযোগ্য ঘোষণা করে। ফলে হাসান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন কেবল ছোট দলগুলোর স্বল্পপরিচিত প্রার্থীদের সঙ্গে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে সরকারবিরোধী কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন অভিযান চালানো হয়। এ সময় নির্বিচারে গ্রেফতার, জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো ঘটনা ঘটে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটের আগেই ভিন্নমত দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

সরকার বুধবার থেকে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করেছে। ইন্টারনেট সংযোগও সীমিত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং জ্বালানি আমদানি ও ধাতু রফতানিতে ব্যবহৃত দার এস সালামের বন্দর কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

৬ কোটি ৮০ লাখ জনসংখ্যার দেশ তানজানিয়ায় ক্ষমতাসীন চামা চা মাপিনদুজি (সিসিএম) পার্টি ১৯৬০-এর দশক থেকে প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে ক্ষমতায় আছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামিয়া সুলুহু হাসানের এ বিপুল জয়ের মধ্য দিয়ে দেশটির গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ আরো অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।