ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের তৃতীয় বার্ষিকীর আগে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যদি তার প্রেসিডেন্ট পদ ত্যাগ করা প্রয়োজন হয়, তবে তিনি তা করতে প্রস্তুত। খবর বিবিসি।
‘যদি শান্তি অর্জনের জন্য সত্যিই আমার পদত্যাগ করা প্রয়োজন হয়—আমি প্রস্তুত। ন্যাটো সদস্যপদের বিনিময়ে আমি এটি করতে পারি।‘ সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এ কথা বলেন।
জেলেনস্কির এ মন্তব্য এলো এমন এক সময়ে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ‘অনির্বাচিত স্বৈরশাসক’ বলে অভিহিত করেছেন। সে মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন জেলেনস্কি। ২০১৯ সালের মে মাসে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত জেলেনস্কি রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বলেন, আমি অপমানিত হইনি, তবে একজন স্বৈরশাসক হয়তো তা হতেন।
তিনি আরো বলেন, আমি আজ ইউক্রেনের নিরাপত্তার ব্যাপারে মনোযোগী, ২০ বছর পরের কথা ভাবছি না। আমি কয়েক দশক ধরে ক্ষমতায় থাকতে চাই না।
ইউক্রেনীয় আইন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের পর থেকে দেশে জারি থাকা সামরিক আইনের কারণে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।
সোমবার জেলেনস্কি পশ্চিমা নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন— কারো কারো সঙ্গে কিয়েভে সরাসরি, আবার কেউ অনলাইনে। যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ভূমিকা রাখবে না।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদের ইস্যুটি আলোচনার টেবিলে থাকবে। তবে আলোচনা কীভাবে শেষ হবে তা তিনি জানেন না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বৈঠকে কাঙ্খিত পরিবর্তন আসতে পারে।
ট্রাম্পের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ইউক্রেনের একজন অংশীদার হিসেবে দেখতে চান, শুধুমাত্র কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নয়।
হোয়াইট হাউস বলছে, তারা এখন পর্যন্ত ইউক্রেনকে যে সামরিক সহায়তা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে, তার বিনিময়ে ইউক্রেনের প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদের ওপর প্রবেশাধিকার চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা এখন পর্যন্ত অনুদান হিসেবেই নেয়া হয়েছে, ঋণ নয়।
তিনি বলেন, তিনি এমন কোনো নিরাপত্তা চুক্তিতে রাজি হবেন না যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মূল্য পরিশোধ করতে হবে।








