জেন-জি আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় পড়েছে নেপাল। গতকাল সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেন জেন-জি আন্দোলনের একদল নেতা। তবে সেখানে কিছু চূড়ান্ত হয়নি।

ঠিক এ সময় সামনে এসেছে তিনটি নাম—সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সাবেক প্রধান নির্বাহী কুলমান ঘিসিং এবং ধরানের মেয়র হার্কা সাম্পাং। এর আগে আলোচনায় এসেছিল কাঠমাণ্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ এর নাম। শুরুতে তাকেই দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা। তবে তিনি দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। এখন সম্ভাব্য যে নামগুলো আলোচনায় রয়েছে-

প্রথমেই সুশীলা কার্কি—নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান তাকে মানুষের আস্থা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে তার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। কার্কিকে সৎ, নির্ভীক ও আপসহীন নেতৃত্ব হিসেবে দেখছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে এখানে নেপাল সাংবিধানিক জটিলতায় পড়েছে। প্রচলিত আইনে সাবেক প্রধান বিচারপতিরা বিচার বিভাগের বাইরে নির্বাহী কোনো পদে আসীন হতে পারেন না। তবু সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে আনার জন্য আইনসম্মত পথ খোঁজার উদ্যোগ চলছে। যদিও আন্দোলনকারী গোষ্ঠীর ভেতরেই কার্কিকে নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত।

অন্যদিকে কুলমান ঘিসিং— বিদ্যুৎ খাতের সংস্কারক। তার হাত ধরেই নেপাল লোডশেডিং মুক্ত হয়েছিল। আন্দোলনকারীরা বলছেন, ঘিসিং একজন দেশভক্ত এবং সবার প্রিয়। বিদ্যুত সঙ্কট মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন দেশের ইলেকট্রিসিটি বোর্ডের এই সাবেক প্রধান। দেশকে বের করে এনেছিলেন চরম বিদ্যুৎবিভ্রাট থেকে। তরুণ প্রজন্ম ও প্রযুক্তিনির্ভর নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছেন তিনি।

তৃতীয় নাম—ধরানের মেয়র হার্কা সাম্পাং। তিনি ধরানের একজন সমাজকর্মী। স্থানীয় রাজনীতিতে তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতা সাম্প্রতিক আন্দোলনে জনতার পাশে থেকে আলোচনায় এসেছেন। রাজনীতির মাঠে জনগণের আস্থা আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন।

তবে নেপালের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে শুক্রবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র।

তাহলে নেপালের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের লাগাম কার হাতে যাবে?