গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। শনিবার গাজা সফরে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে সরব ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারাও। তবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের আহ্বানের পরও ধুঁকছে যুদ্ধবিরতি আলোচনা, নেই অগ্রগতিও। যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে একমত হতে পারেননি হামাস ও ইসরায়েলি প্রতিনিধিরা। এর মধ্যেই গাজায় চলছে অব্যাহতভাবে ইসরায়েলি হামলা।

শনিবারও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনিদের ভিড়ে আবারো নির্বিচার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৯ জন। আহত হয়েছেন আরো ২৩ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আল-কুয়েত গোলচত্বরের কাছে হাজার হাজার নাগরিক আটা ও সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করার সময় ওই হামলায় ১৯ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, অভুক্ত লোকদের দিকে তাক করে ইসরায়েলি ট্যাংকগুলো থেকে মেশিনগান দিয়ে গুলি চালানো হয়। ত্রাণের আশায় নিরীহ ফিলিস্তিনিরা এমন এক জায়গায় জড়ো হয়েছিল, যা ইসরায়েলের জন্য হুমকি বা ঝুঁকির সৃষ্টি করত না। ঘটনাস্থলের একজন প্রত্যক্ষদর্শী আলা আল-খুদারি আল-জাজিরাকে বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী ভিড়ের ওপর এমন সময় গুলি চালায়, যখন অনেক শিশু ত্রাণের রুটিতে কামড় বসিয়েছিল। তাৎক্ষণিক অনেকে মারা যায় এবং অন্যরা আহত হয়।

তবে ত্রাণের আশায় ভিড় জমানো ফিলিস্তিনের বেসামরিকদের ওপর গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। মানুষের ওপর গুলি চালানোর প্রতিবেদনগুলোকে ‘ভুল’ বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

এদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনার কোনো অগ্রগতি হয়নি। হামাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতির সময়কাল এবং ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি নিয়ে একমত হতে পারেনি ইসরায়েল ও হামাস।

গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চায় হামাস। সেই সঙ্গে ফিলিস্তিন থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেয়ারও দাবি জানিয়েছে তারা। বিনিময়ে পর্যায়ক্রমে ১০০ ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেয়া হবে।

ইসরায়েলি প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন দুই হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিকে ঘরে ফিরতে দেবে তারা। এতে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের রাফাহ শহর ছাড়তে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছে হামাস। এমন শর্তকে প্রহসন বলে উল্লেখ করেছে তারা।

সব পক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘‌ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে বিশ্ব যথেষ্ট ভয়াবহতা দেখেছে। গাজার ফিলিস্তিনি শিশু, নারী ও পুরুষ সবাই অব্যাহত দুঃস্বপ্নের মধ্যে রয়েছে। গুতেরেস গাজায় পুরোপুরি ও অবাধ ত্রাণ সরবরাহের অঙ্গীকার করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গেটের একদিকে ত্রাণবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি, অন্যদিকে ক্ষুধার দীর্ঘ ছায়া, যা মানবতার জন্য অপমান।’

এদিকে যুদ্ধবিরতির দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে ইসরায়েলেও। রোববার (২৪ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে তেল আবিবের প্রাণকেন্দ্র কাপলান স্কোয়ারে হাজার হাজার ইসরায়েলি বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় তারা হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির দাবি জানান বলে শনিবার ইসরায়েলি সম্প্রচার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।