যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দুই মার্কিন নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ফেডারেল এজেন্টদের প্রত্যাহারের দাবিতে মিনিয়াপোলিসে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরাও ক্লাস বর্জন করে এ প্রতিবাদে শামিল হয়। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত বিস্তৃত এ বিক্ষোভে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ বন্ধের দাবিতে এ জাতীয় প্রতিবাদ দিবসের ডাক দেয়া হয়। খবর বিবিসি ও রয়টার্স।
চলতি মাসে ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী নার্স অ্যালেক্স প্রেটি এবং রেনি গুড নামে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই মিনিয়াপোলিসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বর্তমানে এ এলাকায় প্রায় তিন হাজার ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন রয়েছে, যারা ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে টহল দিচ্ছে। এ বাহিনীর আকার স্থানীয় পুলিশের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বড়। আইসিইর এ অভিযান ও কার্যক্রমের প্রতিবাদে জিরো ডিগ্রির নিচের তাপমাত্রার মধ্যেও কয়েক হাজার মানুষ মিনিয়াপোলিসের রাস্তায় অবস্থান নেয়। সেখানে শিশু, বৃদ্ধ এবং তরুণ সমাজকর্মীদের ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বিক্ষোভের আঁচ কেবল মিনিয়াপোলিসেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আয়োজকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ২৫০টি স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ‘কাজ নয়, স্কুল নয়, কেনাকাটা নয়—আইসিইকে অর্থায়ন বন্ধ করো’ এ স্লোগান নিয়ে নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও ওয়াশিংটনের মতো বড় শহরগুলো উত্তাল হয়ে ওঠে। শিকাগোর ডিপল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্যাম্পাসকে ‘অভয়ারণ্য ক্যাম্পাস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানায়। অন্যদিকে কলোরাডো ও অ্যারিজোনার অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণে পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতির চাপে মিনিয়াপোলিসে এফবিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জ্যারাড স্মিথকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাকে ওয়াশিংটনে এফবিআই সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এ অভিযানে এফবিআই এবং আইসিইর ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সেন্ট পল চার্চে প্রতিবাদের সময় সাবেক সিএনএন সঞ্চালক ডন লেমনকে গ্রেফতারের ঘটনা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন অনেকে। লেমন আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, তাকে দমানো যাবে না।
বিক্ষোভ ও জনরোষের মুখে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির জনসমর্থন এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মিনিয়াপোলিসের রাস্তায় মাস্ক পরা সশস্ত্র এজেন্টদের আগ্রাসী আচরণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সরকারের ওপর মানুষের আস্থা কমেছে। মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রত্যাহার দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বর্বরতা বন্ধ করা প্রয়োজন।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত বাহিনী সরিয়ে নেয়ার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি। বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতার কারণে এ অভিবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অচলাবস্থা বা শাটডাউনের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।










