এদিকে ইরানে সামরিক হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে ইসরায়েলের হামলা তাদের একতরফা সিদ্ধান্ত। দেশটি তাদের ঘনিষ্ট মিত্র হলেও ইরানে হামলার সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত নই এবং এই অঞ্চলে আমেরিকান বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেছেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, তারা ইরানের ওপর হামলাকে নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।

ইসরায়েলের এ সামরিক পদক্ষেপে যে যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট নয়, সে বিষয়ে বিবৃতি দিয়ে দেশটি স্পষ্টত এ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা আপাতত এ সংঘাতে জড়াতে চায় না। গত বছরও যখন ইসরায়েল এই অঞ্চলে সংঘাতে জড়িয়েছিল, একই রকম পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছিল, ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা সহায়তাও দিয়েছিল কিন্তু নিজেরা সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি।

তবে এবার হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে, ইসরায়েলি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে আমেরিকানদের কোনো সমর্থন থাকবে না। এমনকি তারা আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহেও সাহায্য করবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এটি তেহরানের জন্য একটি বার্তা ছিল।

রুবিওর এই বিবৃতি আমেরিকানদের দূরত্ব বোঝাতে কতটা কৌশলগত ছিল, তা এখনও পরিষ্কার নয়— বলছে বিবিসি। সংবাদমাধ্যমটি প্রশ্ন তুলেছে, এটি কি এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটির বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা এড়ানোর জন্য, নাকি সম্প্রতি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে তৈরি হওয়া ফাটলের ইঙ্গিত?

তার বিবৃতিতে ইরানের পাল্টা হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষায় মার্কিন সমর্থনের কোনো উল্লেখ ছিল না, যদিও আমেরিকানরা অনিবার্যভাবে তা করবে, বলে মনে করেন বিবিসির সাংবাদিক টম বেটম্যান। তবু প্রকাশ্যে এর উল্লেখ না করাটাকে অস্বাভাবিক বলছেন তিনি।

তবে রুবিও ইরানকে একটি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন— তিনি বলেছেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ইরানের মার্কিন স্বার্থ বা কর্মীদের লক্ষ্য করা উচিত হবে না।’