প্রবল শক্তি নিয়ে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের ইউনিয়ন দ্বীপে আঘাত হেনেছে হারিকেন বেরিল। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকালে ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার গতিবেগে একটানা বাতাসসহ চার ক্যাটাগরি হারিকেন হিসেবে বেরিল দ্বীপটিতে আঘাত হানে। হারিকেন বেরিলের তাণ্ডবে দ্বীপটির সব বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। খবর বিবিসি।

মহাশক্তিশালী হারিকেন বেরিল ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে গোটা ইউনিয়ন দ্বীপে। স্থানীয় এক বাসিন্দা একটি ভিডিও ক্লিপে জানান, হারিকেনের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেছে পুরো দ্বীপ। বিধ্বস্ত হয়েছে প্রতিটি বাড়ি। পুরো দ্বীপের প্রায় সব বাসিন্দারা এখন গৃহহীণ অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। 

১৯৮৫ নসাল থেকে এই অঞ্চলে বসবাস করা স্থানীয় এক জেলে বিসিকে জানান, দ্বীপের ৯০ শতাংশই ধ্বংস করে গেছে ঘূর্ণিঝড়টি। ২০০৪ সালের হারিকেন ইভানের দাপটেও তেমন ক্ষতি হয়নি।হারিকেন বেরিলের মতো ভয়াবহ ঝড় তিনি আগে দেখেননি। ঝড়ের তাণ্ডবে সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন তার থাকার জায়গাটা পর্যন্ত নেই।

বেরিলের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্বীপটিতে বসবাসকারী জনগণের প্রয়োজনীয় খাবার, শিশুদের জন্য দুধ, স্যানিটারি পণ্য, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং তাঁবু প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

ঝড় থামার পর স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইন্সের প্রধানমন্ত্রী রালফ গনসালভেস ক্যারিবিয়ান দ্বীপজুড়ে হারিকেন বেরিলের আঘাতের সারসংক্ষেপ জানিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন।তিনি বলেন, বিপজ্জনক ও বিধ্বংসী হারিকেন বেরিল অপরিমেয় ধ্বংসের মধ্যে রেখে গেছে আমাদের দেশকে।

যত দ্রুত সম্ভব ঝড় পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রস্তত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রালফ গনসালভেস।

হারিকেনের তাণ্ডব শেষে দ্বীপটিতে বসবাসকারী হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। অনেকে সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইনস, গ্রেনাডা এবং সেন্ট লুসিয়াতে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।