অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম ব্যাটালিয়নের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে একটি টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (টিএইচএএডি) সিস্টেম পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শনিবার (২১ অক্টোবর) এ তথ্য দিয়েছে পেন্টাগন। খবর বিবিসি।

স্বল্প ও মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে ভূপাতিত করার মতো সক্ষমতা নিয়ে তৈরি টিএইচএএডি সিস্টেম।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন জানান, ওই অঞ্চলে মোতায়েনের জন্য অতিরিক্ত সেনা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে কতজন তা তিনি নির্দিষ্ট করেননি।

পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইরান ও তার সমর্থিত বাহিনী মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান সাম্প্রতিক উত্তেজনা’ কাজে লাগিয়ে হামলা করছে।

দুই সপ্তাহ আগে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা বেড়েছে।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ওপর হামাসের অভূতপূর্ব আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিমানবাহী রণতরী, জাহাজ ও যুদ্ধবিমান পূর্ব ভূমধ্যসাগরে নিয়ে যায়। এছাড়া ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

কয়েকদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কংগ্রেসের কাছে নতুন তহবিল চেয়েছেন। এ যুদ্ধ ব্যয়কে তিনি আমেরিকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে ‘স্মার্ট বিনিয়োগ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিকে হামাস ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ শুরু করলে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ ও অবরোধের অধীনে রয়েছে গাজা। হামলার কারণ হিসেবে হামাস জানিয়েছিল, আল-আকসা মসজিদে হামলার ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রতিশোধ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এরপর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজা উপত্যকায় হামাসের লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সোর্ডস অব আয়রন’ শুরু করে।

ক্রম বর্ধমান হামলায় ভয়ানক মানবিক সংকটের মুখে রয়েছে গাজা। বিদ্যুৎবিহীন এ অঞ্চলে শেষ হয়ে আসছে পানি, খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সরবরাহ।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ‘মানবিক দুর্ভোগ কমাতে’ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের সমর্থনপুষ্ট ইসরায়েলের পক্ষ থেকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার ৭৫৬ শিশু ও এক হাজার নারীসহ কমপক্ষে চার হাজার ৩৮৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলে এই সংখ্যা এক হাজার ৪০০ জনেরও বেশি।