ওয়াইয়োমিং শহরের জ্যাকসন হোলে আগামীকাল শুক্রবার (২২ আগস্ট) মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নীতিনির্ধারকদের এক সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বক্তব্যে রাখবেন ফেড চেয়ার জেরোম পাওয়েল। ফেডের সুদহার, মুদ্রানীতিসহ আরো অনেক বিষয়ে আলোচনা করবেন তিনি। শুধু মার্কিন অর্থনীতির পর্যবেক্ষকরা নয়, তার এ বক্তব্যের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় করছেন আর্থিক, পণ্য ও মুদ্রাবাজারের বিনিয়োগকারী অনেকেই। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়িয়ে এশিয়ার বাজারেও তার এ বক্তব্য বড় প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ফেডের নীতি সংক্রান্ত আর কোনো ভাষণকে আগে কখনো এশিয়ার বাজারের জন্য এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে দেখা যায়নি। এর কারণ, এ ভাষণের মধ্য দিয়েই ইঙ্গিত পাওয়া যাবে, বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিটি আদতেই কোনো ধরনের মন্দাক্রান্ত পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে কিনা বা অন্যদেরও এ পরিস্থিতির দিকে টেনে নিচ্ছে কিনা।
ফেডের নীতিনির্ধারকরা সুদহার কমানো নিয়ে সর্বশেষ বৈঠকে বসেছিলেন গত ২৯ ও ৩০ জুলাই। এরপর থেকে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে অনেক কিছুতেই। লক্ষণীয় মাত্রায় চাপে পড়েছে মার্কিন কর্মসংস্থান। কর্মসংস্থানে প্রবৃদ্ধির তথ্য সংশোধন করে কমিয়ে এনেছে দেশটির ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিক্স (বিএলএস)। আর তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরিসংখ্যান সংশোধনের সঙ্গে সঙ্গে সংস্থাটির প্রধানকে বরখাস্তের ঘোষণা দেন তিনি। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান নিয়ে ‘ভুয়া পরিসংখ্যান’ প্রকাশ করছে বিএলএস। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চলেছেন ট্রাম্পের রিপাবলিকান সহযোগীরাও।
এ পরিসংখ্যান এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডের সুদহার কমানো নিয়ে বিতর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। মুদ্রানীতি নিয়ে ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর। হোয়াইট হাউজের চাপের পাশাপাশি আরো অন্য বিষয়কে বিবেচনায় নিলে ফেডের সুদহার কমানোর ঘোষণা আসার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এমনকি তাদের কেউ কেউ এ-ও বলছেন, এখন ফেড সুদহার কমাবে কিনা, সে নিয়ে বিতর্কে সময় নষ্ট করা অর্থহীন। বরং বিতর্ক হওয়া উচিৎ ফেড সুদহার কী হারে কমাবে, ২৫ বেসিস পয়েন্ট না ৫০ বেসিস পয়েন্ট; তা নিয়ে।
জ্যাকসন হোলের আগামীকালের সম্মেলনে জেরোম পাওয়েলের বক্তব্যে এর একটি স্পষ্ট রূপরেখা বা ইঙ্গিত আসার প্রত্যাশা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে এশিয়ার বাজারগুলোয় এ নিয়ে আগ্রহ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। সুদহার ২৫ বা ৫০ বেসিস পয়েন্ট, যতই কমানো হোক না কেনো, এখানকার বাজারের জন্য তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। আবার এর মধ্য দিয়েই প্রকাশ পাবে, বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিটি শিগগিরই নতুন কোনো মন্দা বা আর্থিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে কিনা।
নিউইয়র্কভিত্তিক কালশি প্রেডিকশন মার্কেটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমানোর সম্ভাবনা ৬৮ শতাংশ। এর চেয়েও বেশি হারে কমানোর সম্ভাবনা ৩ শতাংশ। আর কোনো ধরনের পরিবর্তন না আনার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ।
এশিয়ার বাজারে এ সুদহার না কমানোর সম্ভাবনাকেও আমলে না নেয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময় ফেডের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্যে উঠে এসেছে, তারা এখন মন্দা নিয়ে আশঙ্কার চেয়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিকেই আমলে নিচ্ছেন বেশি।
ফেডের ওপেন মার্কিন কমিটির (এফওএমসি) ২৯ ও ৩০ জুলাইয়ের বৈঠকের মিনিটস প্রকাশ হয়েছে গত বুধবার। এতে দেখা যায়, ওই বৈঠকে উপস্থিত ফেডের ১৮ নীতিনির্ধারকের অধিকাংশই মনে করছেন, এ মুহূর্তে মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকির চেয়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাই তুলনামূলক বেশি।
অক্সফোর্ড ইকোনোমিক্সের অর্থনীতিবিদ মাইকেল পিয়ার্সের মতে, ‘মার্কিন শুল্কনীতির তাদের অর্থনীতিতে এখন অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এর কারণে সামনের মাসগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার বাড়তির দিকে থাকবে। নীতি নির্ধারকদের পক্ষে এখন এককালীন শুল্কের প্রভাব থেকে দীর্ঘমেয়াদী মূল্যস্ফীতির চাপকে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর মধ্যে ফেডের ওপর সুদহার কমানো নিয়ে চাপ অব্যাহত রাখা হয়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিক থেকেই সুদহার কমানোর জন্য জেরোম পাওয়েলের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা কমিয়ে দেয়ার হুমকিও দিয়ে চলেছেন তিনি।
আবার এ শুল্কনীতির কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে— এমন মন্তব্যের জন্য গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রধান অর্থনীতিবিদকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়ারও দাবি তুলেছেন ট্রাম্প। আর ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট তো নীতিগত সব প্রটোকল ভেঙে ১৫০-১৭৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমানোর দাবি তুলেছেন।
ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ড অব গভর্নর্সের অন্যতম সদস্য আদ্রিয়ানা কুগলার সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন। তার জায়গায় ট্রাম্পের আর্থিক নীতির কট্টর সমর্থক স্টিফেন মিরানকে নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফেডের অন্যতম গভর্নর হিসেবে আদ্রিয়ানা কুগলারের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী ৩১ জানুয়ারি। ওই সময় পর্যন্ত তার জায়গায় দায়িত্ব পালন করবেন স্টিফেন মিরান।
মিরানকে নিয়ে ফেড গভর্নরদের মধ্যে ট্রাম্পের আর্থিক নীতির কট্টর সমর্থকের সংখ্যা দাঁড়ালো তিনে। এর আগে জুলাইয়ের ফেড বৈঠকে সুদহার কমানোর পক্ষে জোরালো অভিমত দিয়েছিলেন দুজন গভর্নর। তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এবারই প্রথম ফেডের বৈঠকে গভর্নরদের সিংহভাগের বক্তব্যের বিপক্ষে দুটি মতামত আসতে দেখা গেল।
জেরোম পাওয়েল যদি আগামী মাসেও সুদহার অপরিবর্তিত রাখেন, তাহলে তার ওপর এ নিয়ে আরো মারাত্মক আকারে চাপ বাড়বে। এমনকি তাকে পদচ্যুত বা পদত্যাগে বাধ্য করার বিষয়ে আবারো আগের মতো সক্রিয় হয়ে উঠতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও ট্রাম্প যাতে এ ধরনের কোনো প্রয়াস না নেন, সে বিষয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে তাকে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে; তারপরেও ফেড চেয়ার পদে চাকরির নিশ্চয়তা হুমকির মুখে পড়ে যাওয়ার জোর আশঙ্কা রয়েছে।
গত মঙ্গলবারেই ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন, ‘কেউকি জেরোম ‘টু লেট’ পাওয়েলকে বলবে যে তিনি আমাদের হাউজিং শিল্পকে খুব খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন? তার কারণে মানুষ মর্টগেজ নিতে পারছে না। এখানে কোনো মূল্যস্ফীতি নেই। এবং সব লক্ষণই ইঙ্গিত দিচ্ছে, এখন বড় আকারে সুদহার কমানোর সময় এসেছে।’
ট্রাম্প এরই মধ্যে ফেডের অন্য গভর্নরকে নিয়ে অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন। বুধবার আরেক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফেড গভর্নর লিসা কুকের বিরুদ্ধে মর্টগেজ জালিয়াতির অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। যদিও এরই মধ্যে এর কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন লিসা কুক নিজেও।
মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্য এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেন, ফেডের স্বাধীন বোর্ড সদস্যদের বরখাস্ত করতে ফেডারেল সরকারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ট্রাম্পের উচিত হবে না। তিনি যে ফেড চেয়ার জেরোম পাওয়েল ও গভর্নরদের ভয় দেখাতে বা বরখাস্ত করতে অজুহাত খুঁজছেন, তা সবাই দেখতে পাচ্ছে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, এশিয়ার বিনিয়োগকারী, পর্যবেক্ষক এমনকি সরকারগুলোও এখন ঠিক এ ভয়ই পাচ্ছে। কারণ ট্রাম্প ফেডের যত বিরুদ্ধাচরণ করবেন, ডলারের বিনিময় হারও ঠিক ততটাই হ্রাস পাবে। এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ডও এর বিপরীতে আকাশচুম্বি হবে। আর এশিয়ার বাজার ও অর্থনীতিতে এর ’কোলেটারাল ড্যামেজ’ হবে অত্যন্ত মারাত্মক। এখানকার বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতিতে এটি বিপত্তি ডেকে আনবে। কারণ ডলার হলো বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যচুক্তির মূল ভিত্তি। এ কারণে বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রাটির চরম অস্থিরতায় এশিয়া এখন সরাসরিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সিকিউরিটিজের সবচেয়ে বড় মজুদ রয়েছে এশিয়ায়ই, যার আকার অন্তত আড়াই লাখ কোটি ডলার। এর মধ্যে শুধু জাপানের কাছেই আছে ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি ডলার। আর চীনের কাছে আছে ৭৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলার।
আর যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির তথ্যও এখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও স্কট বেসেন্টের দাবির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। জুলাইয়ে দেশটিতে খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে ভোক্তা মূল্যস্ফীতির আকার (বার্ষিক পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে) দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশে। সামগ্রিক উৎপাদনমূল্য মাসভিত্তিতে বেড়েছে দশমিক ৯ শতাংশ, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গোল্ডম্যান স্যাকসের পর্যবেক্ষণ বলছে, এ মূল্যস্ফীতিকে আরো ব্যাপকতা দিতে পারে ট্রাম্পের শুল্কনীতি।
এ অবস্থায় ফেডের ওপেন মার্কেট কমিটির ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় বৈঠককে ঘিরে বিশ্লেষকদের পর্যালোচনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক এখন তুঙ্গে। জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক ক্ষেত্রেই ফেডারেল রিজার্ভকে অনুসরণ করে থাকে। এর মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া।
বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তবে এখনো তা থেকে খুব একটা আশাব্যাঞ্জক কোনো সম্ভাবনা দেখা যায়নি।
একই সময়ে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কচুক্তি নিয়ে ব্যাপক মাত্রায় দর-কষাকষি চালাচ্ছেন। এতেও এখন পর্যন্ত তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। ট্রাম্পের সমর্থকরা বলছেন, এ মুহূর্তে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তির বিকল্প আর কিছু নেই। চুক্তিটি থেকে প্রাপ্তি যদি সামান্যও হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটিই অনেক।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও গোটা বিশ্বের জন্য এর পরিণতি হবে গুরুতর। যদি বিনিয়োগকারীরা মূল্যস্ফীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণের চাপ (যা এরই মধ্যে ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে) মোকাবেলায় ফেড ও ট্রাম্প প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়ে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন, তাহলে এক সময় মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ওপর থেকে তারা মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারেন। অথচ এতদিন বিশ্বব্যাপী এটিই সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত ছিল।
বার্কলেস ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিশ্চিয়ান কেলারের ভাষ্যমতে, ‘এখন সবকিছু যদি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইচ্ছামত হয়, তাহলে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।’
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা জ্যাকসন হোল সম্মেলনে জেরোম পাওয়েলের বক্তব্যের অপেক্ষায় আছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের অনেক প্রশ্নের উত্তর বা এর ইঙ্গিত দিতে পারবে।
এভারকোরের অর্থনীতিবিদ জুলিয়ান ইমানুয়েল মনে করেছেন, ‘জেরোম পাওয়েল সম্ভবত পরোক্ষভাবে সেপ্টেম্বরে সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমানোর ইঙ্গিত দেবেন।’
আবার ইস্টস্প্রিং ইনভেস্টমেন্টসের অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, শুক্রবার অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে জেরোম পাওয়েল সম্ভবত এ-ও ইঙ্গিত দিতে পারেন, সেপ্টেম্বরে এফওএমসি মূল্যস্ফীতি কমাবে কিনা, তা যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টের কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করবে।’
বক্তব্যে জেরোম পাওয়েল সুদহার কমানোর ইঙ্গিতের বেশি কিছু প্রকাশ করবেন না বলে মনে করছেন সিটি রিসার্চের অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু হোলেনহর্স্ট। আর ব্যাংক অব আমেরিকার অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, যদি জেরোম পাওয়েল সেপ্টেম্বরে সুদ কমানোর বিপক্ষে অবস্থান নেন, সেক্ষেত্রে তিনি হয়তো বলতে পারেন বর্তমান অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী ফেড যথাযথ নীতিই অনুসরণ করছে। সেক্ষেত্রে পরে আগস্টের তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সুদহার কমানো বা না কমানোর সুযোগ তার হাতে থাকবে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শুক্রবারের সম্মেলনে পাওয়েলের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া এশিয়ার বাজারেই সবচেয়ে বেশি হবে বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।
(এশিয়া টাইমস অবলম্বনে)










