গার্ডিয়ানে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শুধু যুক্তরাজ্যেই এক হাজার ৮২৪টি বৃহদাকার শূকর ও পোল্ট্রি খামার রয়েছে। নিবিড় পোল্ট্রি খামারের সংখ্যায় যথাক্রমে শীর্ষস্থানে আছে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ও পোল্যান্ড। শুধুমাত্র এক হাজার ৫৫৩টি পোল্ট্রির নিবিড় খামার নিয়ে যুক্তরাজ্য দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যেখানে ফ্রান্সে এ ধরনের খামারের সংখ্যা দুই হাজার ৩৪২টি। শূকর ও পোল্ট্রি খামার মিলিয়ে ইউরোপের শীর্ষ ১০ দেশ হলো— স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, পোল্যান্ড, বেলজিয়াম ও হাঙ্গেরি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে ‘নিবিড় পশুপালন ইউনিট’ বলতে এমন খামারকে বোঝায় যেখানে একসঙ্গে ৪০ হাজার বা তার বেশি পোল্ট্রি, মাংস উৎপাদনের জন্য দুই হাজার বা তার বেশি শূকর, অথবা ৭৫০ বা তার বেশি প্রজননক্ষম শূকর রাখা হয়। গার্ডিয়ানের গবেষণা বলছে, ইউরোপে মেগাফার্মের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ছোট খামারগুলোর সংখ্যা কমেছে এবং ছোট ও বড় খামারগুলোর মধ্যে বেড়েছে আয়ের ব্যবধান। নিবিড় চাষাবাদের এই প্রসার প্রকৃতিতে পাখি, গাছপালা ও প্রজাপতির সংখ্যা হ্রাসের জন্য দায়ী।
যুক্তরাজ্যের সেভার্ন এবং ওয়াই ভ্যালি নিবিড় পোল্ট্রি চাষের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সেখানে প্রতিজন মানুষের বিপরীতে ৭৯টি মুরগি রয়েছে বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান। ইউরোপজুড়ে বৃহৎ নিবিড় পোল্ট্রি ইউনিটের এই বিস্তার নদী দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। মুরগির বিষ্ঠায় অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় বেশি ফসফেট থাকে, যা নদী ও জলাশয়ের উদ্ভিদ এবং মাছকে অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত করে।
যুক্তরাজ্যে নিবিড় খামারের সংখ্যা ২০১৭ সালে এক হাজার ৬২১ থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে এক হাজার ৮২৪টিতে দাঁড়িয়েছে। ফ্রিডম অফ ইনফরমেশন আইনের অধীনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে ইংল্যান্ডের মেগাফার্মগুলো প্রায় সাত হাজার বার পরিবেশগত বিধি লঙ্ঘন করেছে। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৭টি নিবিড় পশুপালন ইউনিট পর্যবেক্ষণ করেছে এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি। এসব পরিদর্শনের ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রে বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে তারা।
গুরুতর লঙ্ঘন ধরা পড়লেও খামারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘটনা বিরল। সবচেয়ে গুরুতর লঙ্ঘনের অর্ধেকেরও বেশি ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি, বা কেবল ‘পরামর্শ বা নির্দেশনা অথবা একটি সতর্কতা দেয়া হয়েছে। অর্ধেকেরও কম ঘটনায় আনুষ্ঠানিক সতর্কতার মতো আরো কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, এবং ১ শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছে।’
সাউথ ওয়েস্ট নরফোকের এমপি টেরি জার্মি বলেন, ‘এই উদ্বেগজনক সংখ্যা এবং অপরাধের ভয়াবহতা দেখে বোঝা যায়, ২০১৭ সাল থেকে মার্কিন স্টাইলের ফ্যাক্টরি ফার্মের বিস্তার আমাদের ভূমিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং আমাদের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা ও স্থায়িত্বের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।’
ইউরোগ্রুপ ফর অ্যানিমালসের সিইও রিনেকে হ্যামেলিয়ার্স বলেছেন, ‘ইউরোপ জুড়ে পশুপালন মেগাফার্মের স্কেল সম্পর্কে এই তথ্য ব্রাসেলসে একটি সতর্কবার্তা হওয়া উচিত। এটি পশুর কল্যাণ উন্নত করার এবং আরো টেকসই কৃষির দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে যায়। ইউরোপীয় কমিশনের জন্য কৃষির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্মার্ট, তথ্য-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। অর্থায়ন এমন কৃষি ব্যবস্থায় যাওয়া উচিত যা সত্যিকারের টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক এবং স্থিতিস্থাপক।’










