গত কয়েক বছরের গৃহযুদ্ধে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে মিয়ানমার। এর মধ্যে সম্প্রতি টানা বৃষ্টিপাতে সাগাইং ও ম্যাগওয়ে অঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে, ধ্বংস হয়ে গেছে ডাল, তিল ও অন্যান্য শস্যের ক্ষেত। এমনিতেই যেখানে খাদ্য সংকট ঘনিয়ে আসছিল, সেখানে এই বন্যা দুর্ভিক্ষের আশঙ্কাকে আরো তীব্র করে তুলেছে।
মে মাসের শেষদিকে আঘাত হানা একটি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মিয়ানমারের রাখাইন ও চিন রাজ্যজুড়ে শুরু হয় প্রবল বর্ষণ। তা ছড়িয়ে পড়ে সাগাইং ও ম্যাগওয়ে অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক এলাকাগুলোতেও। খিন-ইউ টাউনশিপের এক কৃষক বলেন, ‘সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। মুগডালের ক্ষেত শেষ হয়ে গেছে। যেগুলো কিছুটা টিকে আছে, সেগুলোও এখন অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছে। আর শুকাতে গিয়ে নতুন খরচ।’
অন্যদিকে ম্যাগওয়ে অঞ্চলের মিনবু জেলায় প্রায় ২,০০০ একর তিলক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক কৃষক নিজের পকেট থেকে খরচ করে জমি থেকে পানি সেচ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ১০ দিনের টানা বৃষ্টিতে শেষরক্ষা হয়নি। নতুন করে চাষ করা আর সম্ভব হচ্ছে না—কারণ এখন বাজারে তিল বীজের দাম কেজিপ্রতি ১০ হাজার কিয়াট ছাড়িয়েছে।
এক কৃষি বিশ্লেষকের মতে, ইরাওয়াদ্দি নদীর প্রাকৃতিক জলনিষ্কাশন ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর পরিবেশ অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত জল ও ভূমি ব্যবহার ইররাবডিকে অকেজো করে দিয়েছে।’
তিনি আরো আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘এই অঞ্চলের মানুষ জান্তা-বিরোধী প্রতিরোধে সক্রিয় হওয়ায় সরকার তাদের সাহায্য করবে না। এই উদাসীনতা দুর্ভিক্ষকে বাস্তব করে তুলবে।’
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারে ২৫.৬ মিলিয়ন মানুষ (৪৮% জনগোষ্ঠী) মাঝারি থেকে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ফসলহানি ও জান্তা সরকারের সহায়তা না পেলে মিয়ানমারে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের বন্যায় মিয়ানমারে কয়েক লাখ একর জমির ফসল ধ্বংস হয়। মারা যায় এক লাখেরও বেশি গবাদি পশু। তার অভিঘাত থেকে এখনো সেরে উঠতে পারেনি দেশটির খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা। ফলে চলমান বিপর্যয়ের প্রভাব আরো গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি হবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।








