রোমান ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু হিসেবে নতুন পোপ বেছে নিতে ইতালির রাজধানী রোমে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। পরবর্তী পোপ নির্বাচনে গোপনীয়তা নিশ্চিতে ভ্যাটিকান সিটিজুড়ে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দরয়াসহ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর সিএনএন।

ইতালীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, পোপ ফ্রান্সিসের উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য কার্ডিনালরা যে সিস্টিন চ্যাপেলে ভোট দেবেন, সেখানেও সিগনাল জ্যামার ব্যবহার করা হবে। স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর ৩টা থেকে সব ধরনের সিগনাল বন্ধ করা হবে।

ভ্যাটিকানের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, কার্ডিনালদের মঙ্গলবার তাদের ফোন ও সমস্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস জমা দিতে হয়েছে। পোপ নির্বাচন শেষে আবার সেগুলো ফেরত পাবেন তারা।

নতুন পোপ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে এরই মধ্যে রোমে পৌঁছেছেন ১৩৩ জন কার্ডিনাল। ভ্যাটিকানের সান্তা মার্তা অতিথিশালায় অবস্থান করছেন তারা। পোপ নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা বহির্বিশ্বের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। সিগনাল বন্ধের বিষয়ে ভ্যাটিকান সিটি স্টেট গভর্নরেট জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কর্মীরাও কঠোর এ নিয়মের অধীনে থাকবেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "তাদের সবাই শপথ নিয়ে ভ্যাটিকানের ভেতরে রাত কাটাবেন। এ সময় তাদের পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ থাকবে না।"

ইতালির পুলিশ জানিয়েছে, এলাকাটিতে নিরাপত্তা "বাড়ানো" হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে প্রবেশপথে তল্লাশি চৌকি, মেটাল ডিটেক্টর এবং অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম। পুলিশ আরো নিশ্চিত করেছে, তীর্থযাত্রীদের পথ, যেমন সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার হলি ডোর, খোলা থাকবে।

ভ্যাটিকানের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো পোপ নির্বাচন প্রক্রিয়ার কয়েক শতাব্দী পুরনো গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের ফাঁস বা বাইরের প্রভাব রোধ করা। ২০১৩ সালে পোপ ফ্রান্সিস নির্বাচনের সময়ও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

পোপ নির্বাচনের জন্য বুধবার একবার আর পরবর্তী প্রতিদিন চারবার করে ভোট দেওয়া হবে। পোপ নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলবে। ভোটাভুটির পর একবার সকালে ও একবার বিকেলে ব্যালটগুলো পোড়ানো হবে। প্রথা অনুযায়ী, পোপ নির্বাচিত না হলে ব্যালটগুলোয় রাসায়নিক মিশিয়ে পোড়ানো হয়। এতে ভ্যাটিকানের ছাদ দিয়ে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। আর যদি ধোঁয়ার রং সাদা হয়, তবে ধরে নিতে হবে যে রোমান ক্যাথলিকরা নতুন পোপ পেয়ে গেছেন।