ফিলিস্তিনের মধ্য গাজার সর্বশেষ পূর্ণ কার্যকরী হাসপাতালে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে হাসপাতালটির আইসিইউ ও অস্ত্রোপচার অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আল-আহলি ব্যাপটিস্ট হাসপাতালের দোতলা ভবনে মিসাইল ছোড়ার পর সেখান থেকে আগুনের কুণ্ডুলি ছড়িয়ে পড়ছে। খবর এপি।

এ হামলার ঘটনা স্বীকার করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তাদের দাবি, হাসপাতালটিকে কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছিল হামাস। সতর্কতা জারি, সুনির্দিষ্ট অস্ত্র ও আকাশ নজরদারি ব্যবহার করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পদক্ষেপ নিয়েই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, হাসপাতালের রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নিতে সতর্কতা জারি করে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর ভোরের দিকে গাজা শহরের আল-আহলি হাসপাতালে হামলা চালানো হয়। চিকিৎসাকর্মীরা জরুরি চিকিৎসা প্রদান করতে না পারায় দুজন মারা গেছে।

এদিকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলি বাহিনী যে ৩৫টি হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে, তাদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। এ হাসপাতালগুলোর মধ্যে আল-আহলি হাসপাতালও রয়েছে।

গাজা শহরের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা, হামাসের অবকাঠামো ভেঙে ফেলা ও সেখানে একটি মনোনীত নিরাপত্তা অঞ্চল সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ভূখণ্ডটিতে নতুন করে হামলা শুরু করেছে আইডিএফ। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্তজ ঘোষণা করেছেন, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বেশির ভাগ অংশে শিগগিরই তাদের সামরিক অভিযান ‘জোরালোভাবে’ সম্প্রসারণ করা হবে। ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী গাজা উপত্যকার দক্ষিণে মোরাগ করিডোর নির্মাণ শেষ করেছে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আগের নিয়ন্ত্রণে থাকা নেৎজারিম করিডোর ও মোরাগ করিডোর মিলে গাজাকে তিনটি অংশে ভাগ করেছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গাজার জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘এটাই শেষ সুযোগ। হামাসকে সরাও ও বন্দিদের ছেড়ে দাও। তাহলেই গাজায় যুদ্ধ থামবে, নয়তো ইসরায়েলি অভিযান গাজার অধিকাংশ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।’

এরই মধ্যে খান ইউনিস ও আশপাশের এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের অন্যত্র সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকা থেকে আকাশপথে হামলার কড়া জবাব দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। যদিও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার অভিযোগ এনেছে হামাস। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, ‘সমীকরণ খুব স্পষ্ট: যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে বন্দিমুক্তি। বিশ্ব এটা মেনে নিচ্ছে, কিন্তু নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করছেন।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালায় হামাস। এর জবাবে ওইদিনই গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী, যা এখনো চলছে। নির্বিচার হামলায় উপত্যকাটিতে এ পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে বলে জানিয়েছে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে গত ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর নিহত হয়েছে ১ হাজার ৫৬৩ জন।