ইরানে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। এর জবাবে ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসম্পত্তি সুরক্ষায় সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবে। শত্রুর ষড়যন্ত্র ভণ্ডুল করতে ইরানের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
গতকাল ইরানের কয়েকটি আধাসরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ও কিছু শত্রুভাবাপন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দেশের জননিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে ঘিরে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। তা দ্রুত সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। কয়েক বছরের মধ্যে দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। সরকার কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমন করছে। বিক্ষোভকারী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘাতে এরই মধ্যে ৬৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। হাসপাতালগুলো রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
বিবৃতিতে সেনাবাহিনী বলেছে, সর্বোচ্চ কমান্ডারের নির্দেশনায় সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনী আঞ্চলিক পর্যায়ে শত্রুর তৎপরতা যৌথভাবে নজরে রাখার পাশাপাশি দেশের কৌশলগত অবকাঠামো, জনসম্পত্তি ও জাতীয় স্বার্থ দৃঢ়তার সঙ্গে রক্ষা করবে।
গতকাল ইরানের অভিজাত ইসলামী বিপ্লবী গার্ডও (আইআরজিসি) আলাদা করে সতর্কবার্তা জারি করেছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, আইআরজিসি জানিয়েছে, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের অর্জন ও দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করা তাদের কাছে ‘শেষ কথা’। আইআরজিসি সেনাবাহিনীর বাইরে আলাদাভাবে পরিচালিত হয়।
গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের জনগণের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে এক পোস্টে রুবিও লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে।
এর কিছু আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘গুলি চালানো শুরু না করাটাই আপনাদের জন্য মঙ্গলজনক। কারণ আপনারা শুরু করলে আমরাও গুলি চালাব।’ শান্তিপ্রিয় বিক্ষোভকারীরা নিহত হলে সামরিক হামলার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, কিছু শহরে সাধারণ মানুষ এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছেন, যা কয়েক সপ্তাহ আগে কল্পনাও করা যেত না।’
ইরানে গত ২৮ ডিসেম্বর দুর্বল অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। ৩ জানুয়ারি থেকে তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ থেকে ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবি উঠেছে।
গতকাল প্রেস টিভিতে সম্প্রচারিত এক বার্তায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, ‘ট্রাম্পের হাতে এক হাজারের বেশি ইরানির রক্তের দাগ লেগে আছে।’
খামেনি নাগরিকদের সতর্ক করে বলেন, ‘আপনারা বিদেশী শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা করবেন না। বিদেশীদের সঙ্গে যোগসাজশ আমি সহ্য করব না। যদি আপনি বিদেশীদের সঙ্গে সহযোগিতাকারী এজেন্ট হন, তাহলে ইরানের জনগণ ও সরকার আপনাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।’ ট্রাম্পের সমালোচনা করে খামেনি বলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা তার (ট্রাম্পের) কথা হয়তো বিশ্বাস করতে পারেন। শুধু তাকে খুশি করতেই তারা ডাস্টবিন জ্বালাচ্ছেন।’ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ এ নেতা বলেন, ‘সচেতন থাকুন এবং ঐক্য বজায় রাখুন। জাতি যেকোনো শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয়ী হবে।’










