বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) চীনে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশে। এ হার বিগত এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হলেও বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা দেশটির অর্থনীতিতে যে ধরনের প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছিল, চীন এ সময় তা অনেকটাই সফলভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছে বলে মনে করছেন তারা। খবর বিবিসি ও রয়টার্স।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। এতে অর্থবছর শেষে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে দেশটির অর্থনীতি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়া, বিনিয়োগে স্থবিরতা ও সম্পত্তি খাতের মন্দা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
সম্প্রতি বেইজিং দুষ্প্রাপ্য খনিজ রফতানিতে কঠোরতা আরোপ করেছে। ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদনে অত্যাবশ্যক এসব খনিজের রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ আনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা আবার টানাপড়েনে পড়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন থেকে আমদানি করা পণ্যে অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি কমলেও চীন এখন নতুন বাজারে বাণিজ্য বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছে। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রফতানি কমেছে ২৭ শতাংশ। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রফতানি বেড়েছে ১৪ শতাংশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ ও আফ্রিকায় ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ। নতুন বাজারে প্রতিযোগিতা এত বেশি যে টিকে থাকতে নির্মাতাদের দাম কমাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
সেপ্টেম্বরে শিল্পোৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে থ্রিডি প্রিন্টিং, রোবটিকস ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে খুচরা বিক্রি বেড়েছে মাত্র ৩ শতাংশ, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন হার।
অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল থাকায় চীনা সরকার এখনো প্রণোদনা চালু রেখেছে। বেইজিং আশা করছে, প্রযুক্তি ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধিই অর্থনীতিকে গতিশীল রাখবে। এ সপ্তাহে দেশটির শীর্ষ নেতারা ২০২৬-৩০ মেয়াদের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করবেন, যেখানে উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদন ও অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারণে জোর দেয়া হবে।
আইএনজি ব্যাংকের গ্রেটার চায়না বিভাগের প্রধান অর্থনীতিবিদ লিন সঙ বলেন, ‘চীন চলতি বছরের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে। তাই নীতিনির্ভর পদক্ষেপের তাড়না হয়তো কিছুটা কমবে। তবে দুর্বল আস্থা, কম ভোগব্যয় ও সম্পত্তি খাতের মন্দা এখনো সমাধান দাবি করে।’
চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে রিয়েল এস্টেট খাতে বিনিয়োগ কমেছে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময় স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগও প্রথমবারের মতো কমেছে দশমিক ৫ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, এ অবস্থায় চীনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।










