যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পরই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ভিডিও কল দেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

মঙ্গলবারের (২১ জানুয়ারি) এই ভিডিওকলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানায় দুই দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। খবর বিবিসি

শিকে "প্রিয় বন্ধু"বলে অভিহিত করে পুতিন বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রাশিয়া ও চীনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বিশ্বাস ও সমর্থনের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

শি পুতিনকে কৌশলগত সমন্বয় জোরদার, পারস্পরিক সমর্থন জোরদার এবং বৈধ স্বার্থ রক্ষা করার আহ্বান জানান।

এদিকে মঙ্গলবার ট্রাম্প বেইজিংকে ‘অপব্যবহারকারী’ বলে অভিহিত করে শুল্ক আরোপের হুমকি দেন এবং সতর্ক করেন, ইউক্রেনে হামলা বন্ধ না করলে মস্কোর জন্য সামনে বড় সমস্যা আছে।

এই ফোনালাপের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেন, পুতিন শিকে ইউক্রেন সংকট সমাধানে রাশিয়ার স্বার্থকে সম্মান করতে হবে বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, যদি ট্রাম্প প্রশাসন আগ্রহ দেখায় তাহলে পুতিন ও শি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক ও সম্মানজনক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুত আছেন। তবে এই আহ্বান কোনোভাবেই ট্রাম্পের অভিষেকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত না।

উশাকভের মতে, দেড় ঘণ্টার এই ফোনালাপে পুতিন ও শি মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, বাহ্যিক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলায় চীন ও রাশিয়া একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি শি।

এর আগে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে মস্কোর জন্য যুদ্ধ মেশিন তৈরির অভিযোগ উঠেছিল।

২০২৩ সালে দুই দেশের মধ্যকার রেকর্ড পরিমাণ বাণিজ্য হয় যা ২৪০ বিলিয়ন ডলারে (১৯১ বিলিয়ন পাউন্ড) পৌঁছায়। ২০২১ সালের তুলনায় যা ৬৪ শতাংশ বেশি।

গত সপ্তাহে শি ও ট্রাম্পের ফোনে আলাপ হয়, যেখানে দুই দেশের বাণিজ্য, ফেন্টালাইন মাদক ও টিকটক নিয়ে আলোচনা হয়। এই ফোনালাপকে শি দুইদেশের জন্য খুব ভালো আলোচনা বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে পুতিন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ট্রাম্পকে শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগে অভিনন্দন জানালেও এখনো তাদের সরাসরি কথা হয়নি।