ইরানের দিকে একটি মার্কিন নৌবহর অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ বহর ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরুর মতো কর্মকাণ্ড থেকে তেহরানকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। খবর রয়টার্স।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং কয়েকটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছবে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। ওই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় সম্ভাব্য ইরানি হামলা ঠেকাতে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দেশে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, অনেকগুলো জাহাজ ওইদিকে যাচ্ছে। এটা শুধু সতর্কতার জন্য। আমি চাই না কিছু ঘটুক। তবে আমরা খুব কাছ থেকে তাদের পর্যবেক্ষণ করছি। তিনি আরো বলেন, আমাদের একটি নৌবহর ওইদিকে যাচ্ছে। হয়তো আমাদের সেটি ব্যবহার করতে হবে না।

সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীদের হত্যা বন্ধে দফায় দফায় সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এক পর্যায়ে বিক্ষোভ কমে এলে ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ হলে সে অবস্থান থেকে সাময়িকভাবে সরে আসেন তিনি। সে সময় তিনি বলেন, তিনি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বন্ধ করেছেন।

বৃহস্পতিবারও একই মন্তব্য করেন ট্রাম্প। বলেন, তার হুমকির পর ইরান প্রায় ৮৪০টি ফাঁসি কার্যকর করা বাতিল করেছে। তিনি আরো বলেন, আমি বলেছিলাম, যদি তোমরা (ইরান) ওই মানুষগুলোকে ফাঁসি দাও, তাহলে তোমাদের ওপর এমন আঘাত আসবে যা আগে কখনও দেখনি। এ ভয়াবহ ঘটনার মাত্র এক ঘণ্টা আগে তারা সেটি বাতিল করে। তাদের এ পদক্ষেপকে ভালো লক্ষণ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।