ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপড়েনের মধ্যে ব্রিটেন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রনীতি অন্য কারো কাছ থেকে ‘আউটসোর্স’ করা হবে না। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেছেন, ‘২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ ও তার পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। তাই যুক্তরাজ্যের সরকারকেই ঠিক করতে হবে কোনটি তাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।’

রোববার বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কুপার বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সরকারের কাজ হচ্ছে দেশের জাতীয় স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেয়া। এর অর্থ এই নয় যে লন্ডন সবসময় অন্য দেশের সঙ্গে একমত হবে, আবার এইও নয় যে নিজেদের পররাষ্ট্রনীতি অন্য কোনো শক্তির হাতে ছেড়ে দেবে। তার এ মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো ব্রিটেনের অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন।

কুপারের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। টনি ব্লেয়ারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে ব্রিটেন সরাসরি যোগ দিয়েছিল। সেই যুদ্ধের বৈধতা, গোয়েন্দা তথ্য, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার প্রশ্ন আজও ব্রিটিশ রাজনীতিতে দগদগে ক্ষত। কুপার কার্যত বোঝাতে চেয়েছেন, ইরানকে ঘিরে নতুন সংকটে লন্ডন আর সেই পুরোনো পথ অন্ধভাবে অনুসরণ করতে রাজি নয়।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও একই ধরনের সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম দফার সামরিক পদক্ষেপে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চাইলে তিনি তাতে সায় দেননি। পরে অবশ্য ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালানোর পর লন্ডন “নির্দিষ্ট ও সীমিত” প্রতিরক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি খোলার অনুমতি দেয়। তবে স্টারমার স্পষ্ট করে বলেছেন, পরিষ্কার আইনি ভিত্তি এবং সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া ব্রিটেন কোনো আক্রমণাত্মক যুদ্ধে জড়াবে না।

এ সতর্ক অবস্থান ওয়াশিংটনে ভালোভাবে নেওয়া হয়নি। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুদ্ধের প্রথম ঢেউয়ে সহায়তা না দিয়ে স্টারমার দুই দেশের ঐতিহাসিক জোটকে দুর্বল করেছেন। পরে যখন ব্রিটেন তাদের দুটি বিমানবাহী রণতরীর একটি, এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলসের মোতায়েন প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করার কথা জানায়, তখন ট্রাম্প কটাক্ষ করে বলেন, “এখন আর আমাদের তাদের দরকার নেই।” রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য দুই দেশের সামরিক সমন্বয়ে দৃশ্যমান অস্বস্তিকে আরও উন্মুক্ত করেছে।