ফ্রান্সের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের নতুন ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ১১ দিনে আড়াই হাজারের বেশি অভিবাসী ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের হোম অফিস প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৮ হাজার মানুষ ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে। লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। খবর বিবিসি।

নতুন চুক্তির পাইলট প্রকল্পে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য যতজন অভিবাসীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠাবে, ঠিক ততজন আশ্রয়প্রার্থীকে ব্রিটেনে থাকার অনুমতি দেয়া হবে, যাদের আবেদন শক্তিশালী। চুক্তিটি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

হোম অফিসের এক মুখপাত্র জানান, মানব পাচারকারীরা মানুষের জীবনের তোয়াক্কা করে না, তারা শুধু অর্থের বিনিময়ে কাজ করে। সরকার এ চক্রের ব্যবসায়িক মডেল ভেঙে দিতে চাইছে। এ কারণে ফ্রান্সের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো ও ছোট নৌকার অভিবাসীদের আটক করে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক সাহায্যকর্মী রব লরি জানিয়েছেন, পাচারকারীরা এখন বড় নৌকায় ১৫০ জন পর্যন্ত লোক পাঠাচ্ছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে শিশুদের পিষ্ট হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার সময় পাচারকারী চক্র ভেঙে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে তারা সতর্ক করে বলেছিল, এটি দ্রুত বা সহজ হবে না। এখন মন্ত্রীদের ওপর ফলাফল দেখানোর চাপ বাড়ছে। বিরোধী দলের নেতা ক্রিস ফিলিপ অবশ্য এ চুক্তিকে ‘কোনো ধরনের কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয়’ বলে সমালোচনা করেছেন।

হোম অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ছোট নৌকায় করে আসা অভিবাসীদের মধ্যে আফগানরা ছিল শীর্ষে। এর পরই রয়েছে সিরিয়া, ইরান, ভিয়েতনাম ও ইরিত্রিয়ার নাগরিকরা। এসব দেশের নাগরিকরাই মোট আগমনের ৬১ শতাংশ।

উল্লেখ্য, যুদ্ধ বা নির্যাতনের কারণে নিজের দেশে জীবন ঝুঁকিতে থাকলে কোনো বিদেশী রাষ্ট্রে আশ্রয় চাওয়ার অধিকার ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনে স্বীকৃত।