গত অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর সেখানে নিহতের সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে। সেই সঙ্গে আহত হয়েছে ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ।
এছাড়া বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় নিহত হয়েছে ৮২ জন এবং আহত হয়েছে ১১০ জন ফিলিস্তিনি। শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে মোট নিহতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো চাপা পড়ে আছে অনেক মরদেহ।
গত ৭ অক্টোবর গাজার উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্তে হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এক হাজারেরও বেশি হামাস যোদ্ধা। এ হামলার পর ওইদিনই গাজায় অভিযান শুরু করে আইডিএফ। সেই অভিযান এখনো চলছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা হামলায় বাড়িঘর হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে গাজার ২২ লাখ বাসিন্দার ৮৫ শতাংশ। সেই সঙ্গে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে উপত্যকার ৬০ শতাংশ ভবন।
যুদ্ধ বাধার পর থেকে গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে না খেতে পেয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে উপত্যকায়।
যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ভেটো চীন-রাশিয়ার গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তির আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে উত্থাপিত মার্কিন খসড়া প্রস্তাবে এবার ভেটো দিয়েছে রাশিয়া ও চীন। দেশ দুটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের তোলা এ প্রস্তাব পাস হলে ইসরায়েল আরো ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর ক্ষমতা পাবে। তাই এ প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে তারা।
অবিলম্বে গাজায় অন্তত ছয় সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানোর বিষয়টি তুলে প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, এটা হলে গাজার বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা ও ত্রাণসহায়তা পাঠানো যাবে। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস গ্রিনফিল্ড নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, ‘পরিষদের অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্রই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও দুর্ভাগ্যবশত রাশিয়া ও চীন এতে ভেটো দিল।’
যুক্তরাষ্ট্রের লিখিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদ অবিলম্বে এবং টেকসই যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করে এবং সেই লক্ষ্যে দ্ব্যর্থহীনভাবে সব অবশিষ্ট জিম্মির মুক্তির ক্ষেত্রে এ জাতীয় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতের জন্য চলমান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। রাশিয়া ও চীন খসড়া প্রস্তাবে ভেটো দিলেও ১৫ সদস্যের কাউন্সিলের ১১টি দেশ এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। আলজেরিয়া বিপক্ষে ভোট দিয়েছে এবং গায়ানা ভোটদানে বিরত থেকেছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রস্তাব অতিশয় রাজনৈতিক এবং প্রস্তাবটিতে কার্যত ইসরায়েলকে গাজার রাফায় হামলা চালানোর ব্যাপারে ‘সবুজসংকেত’ দেয়ার বিষয়টি রয়েছে। এ প্রস্তাব পাস হলে যা ইচ্ছা তা-ই করার অবাধ ক্ষমতা পাবে ইসরায়েল।
জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জুন বলেছেন, যুদ্ধবিরতির কথা বলে যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রস্তাব তোলা হলেও যুদ্ধবিরতির বিষয়েই রয়েছে ফাঁকি। তাই তার দেশ এতে ভেটো দিয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির নতুন আহ্বান নিয়ে গাজা সীমান্তে যাচ্ছেন জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস। শনিবারই তার সেখানে যাওয়ার কথা। গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফা শহরে ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দেয়ার পর এ সফরের ঘোষণা দিলেন গুতেরেস।










