হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির তৃতীয় দিনে
ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে আরো ৩৯ ফিলিস্তিনি। এ দফায় মুক্তি পাওয়াদের বেশির
ভাগই কিশোর। অন্যদিকে হামাস ১৭ জন বন্দিকে ছেড়ে দিয়েছে। খবর বিবিসি।
গতকাল রোববার (২৬ নভেম্বর) ইসরায়েলের বন্দিদশা
থেকে মুক্তি পাওয়াদের একজন মোহম্মদ আল-আওয়ার। তেল আবিবের কারাগারে ১৬ মাস বন্দি ছিলেন
এ কিশোর।
আওয়ার বাড়ি ফেরার পর তার মা মিশ্র প্রতিক্রিয়া
জানান। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, গাজায় অনেক নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েল, তাই
‘আমাদের বিজয় এখনো
অসম্পূর্ণ’।
আরেক কিশোর আবদুর রহমান আল-জাঘলকে মুক্তি
দেয়া হলেও বাড়ি ফিরতে পারেনি। কারণ ইসরায়েলি একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
আবদুর রহমানের চাচা জানান, গত আগস্টে রুটি
কিনতে যাওয়ার সময় তার মাথায় গুলি করা হয় ও শরীরের নিচের অংশে ছুরি দিয়ে আঘাত করা
হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি. ওই কিশোর পেট্রল বোমা নিক্ষেপের চেষ্টা করছিল।
এ দফায় ইসরায়েল থেকে মুক্তি পাওয়াদের প্রায়
সবাই শিশু-কিশোর। তাদের মধ্যে ২১ জন জেরুজালেমের, গাজা উপত্যকার রাফাহ থেকে একজন ও
বাকিরা পশ্চিম তীরের বিভিন্ন অংশের বাসিন্দা।
একই দিন ১৭ বন্দিকে মুক্তি দেয় ফিলিস্তিনি
গোষ্ঠী হামাস। যাদের মধ্যে চারজন বিদেশী।
৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল সংঘাত শুরু দেড়
মাস পর চারদিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় তেল আবিব। যার শেষদিন অতিক্রান্ত হবে আজ রোববার।
এ পর্যন্ত তেল আবিবের কারাগার থেকে ১১৭
ফিলিস্তিনির মুক্তি নিশ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে ৪০ জনকে মুক্তি দিয়েছে হামাস।
ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি উপলক্ষে
রোববার রাতে অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লার সড়কে ফিলিস্তিনি জনতার ঢল নামে। তারা মুক্তি
পাওয়া বন্দিদের বহনকারী রেড ক্রসের বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় কেউ কেউ ফিলিস্তিনের
প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল হামাস ও ফাতাহ-এর পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনি পতাকাও ওড়ান।
এর আগে ইসরায়েল ৩০০ কারাবন্দির নাম প্রকাশ
করে। যাদের বেশির ভাগই শিশু-কিশোর।
এদিকে আলজাজিরা জানায়, গাজায় যুদ্ধবিরতি
চললেও পশ্চিম তীরে হামলা, হত্যা ও ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি দখল অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।










