২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জার্মানির নির্বাচন। সেখানে রক্ষণশীল নেতা ফ্রিডরিশ মের্জের জয়ের সম্ভাবনা বেশি দেখছেন বিশ্লেষকরা। তার দল সিডিইউ/সিএসইউ এখন পর্যন্ত জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছে। তবে সরকার গঠনের জন্য মের্জকে জোট সঙ্গী খুঁজতে হবে। এতে কয়েক সপ্তাহ বা মাসও লেগে যেতে পারে। বর্তমান চ্যান্সেলর ওলাফ শুলজ ও সাবেক নেতা অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের মধ্যপন্থী নীতির পরিবর্তে মের্জ রাজনীতিকে ডানপন্থীর দিকে নিয়ে যেতে চান।

এবারের নির্বাচনের মূল ইস্যু হলো অর্থনৈতিক স্থবিরতা, অভিবাসন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক। কট্টর ডানপন্থী অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, বর্তমানে তাদের ভোট ২০ শতাংশ। অন্যান্য দল এএফডিকে চরমপন্থী মনে করে থাকে এবং তাদের সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকার করেছে। তবে এ কারণে এএফডি আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এএফডি ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন উদযাপন করেছে। পাশাপাশি ধনকুবের ইলোন মাস্কের সমর্থন পেয়েছে। মের্জ মনে করেন, অভিবাসন নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগ সমাধান করলেই চরমপন্থার উত্থান ঠেকানো সম্ভব। নির্বাচিত হলে তাকে অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক বিভাজন মোকাবেলা করতে হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সম্প্রতি কিন্ডারগার্টেন শিশুদের ওপর এক আফগান নাগরিকের ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিবাসন বিতর্ক আরো উসকে যায়। ঘটনাটির পর কট্টর ডানপন্থী এএফডি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কারণ এ হামলার পর ফ্রিডরিশ মের্জ সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে এএফডির সমর্থনে পার্লামেন্টে একটি প্রতীকী প্রস্তাব পাস করান, যা তার কঠোর অভিবাসন নীতির ইঙ্গিত দেয়। এটি এএফডির সঙ্গে কাজ না করার দীর্ঘদিনের নীতি ভেঙে দেয়, যার ফলে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়।

সমালোচকরা, বিশেষ করে চ্যান্সেলর ওলাফ শুলজ মের্জকে এএফডির সঙ্গে জোটের পথ খুলে দেয়ার অভিযোগ করেন। যদিও তিনি এটি অস্বীকার করেন। শুলজ সতর্ক করেন, এটি নির্বাচনের পরবর্তী জোট আলোচনার জন্য খারাপ সংকেত হতে পারে। তিনি শান্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। মের্জ শুলজকে এএফডির উত্থানের জন্য দায়ী করে বলেন, ‘মূলধারার দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে এএফডি সরকারে আসতে না পারে।’ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মারিয়ান কনয়ের মতে, এখন পর্যন্ত কোনো দল এএফডির ক্রমবর্ধমান প্রভাব থামাতে পারেনি।

জার্মানির আসন্ন সরকার গঠন কঠিন হতে পারে। কারণ পার্লামেন্টে আটটি দল থাকতে পারে। মের্জকে জোট সঙ্গী খুঁজতে হবে। তবে শুলজের আগের জোট নভেম্বরে ভেঙে পড়ে। ছোট দল ফ্রি ডেমোক্র্যাটরা পার্লামেন্টে ফিরে আসার জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ ভোট নাও পেতে পারে। ফলে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এসপিডি (শুলজ ছাড়া) ও গ্রিন পার্টি বিকল্প হতে পারে। তবে মের্জের সিএসইউ মিত্ররা গ্রিন পার্টির সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করছে। মের্জ ছুটির দিন ইস্টারের মধ্যে সরকার গঠনের লক্ষ্য রেখেছেন, তবে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে।

জার্মানির অর্থনীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দুই বছর ধরে সংকুচিত হয়েছে। এক সময়ের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার চীন এখন বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। ন্যাটোর জন্য জার্মানির কম ব্যয়ের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প, যার কারণে আরো বড় চ্যালেঞ্জ আসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। পাশাপাশি বাণিজ্য যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ অনিশ্চয়তা ও বাণিজ্য দ্বন্দ্ব জার্মান অর্থনীতিকে আরো সংকুচিত করতে পারে। —এএফপি অবলম্বনে